শেয়ারবাজারে সুশাসন নিশ্চিত, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ারের নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ১০০টি ব্রোকারেজ হাউজ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই পদক্ষেপকে বাজারে নজরদারি আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, কমিশনের লক্ষ্য শুধু অনিয়ম ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়; বরং আগেভাগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ করা। তার ভাষ্য, কার্যকর তদারকির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই কমিশনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে লেনদেন বেড়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। সেই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ১০টি ব্রোকারেজ হাউজ পরিদর্শনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্যামল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট, ভিশন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, হাওলাদার ইক্যুইটি সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, এরশাদ সিকিউরিটিজ, আর চৌধুরী সিকিউরিটিজ, এসএআর সিকিউরিটিজ এবং এমএএইচ সিকিউরিটিজ। এছাড়া লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজম সিকিউরিটিজ ও সিনথিয়া সিকিউরিটিজও পরিদর্শনের আওতায় থাকবে।
কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পরিদর্শন দলকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পরিদর্শনের সময় ব্রোকারেজ ও ডিলার কার্যক্রম, সিকিউরিটিজ আইন ও বিধি অনুসরণ, গ্রাহকের অর্থ ও শেয়ারের নিরাপত্তা, কনসোলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) পরিচালনা এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) সংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে।
বিএসইসি ইতোমধ্যে সব ব্রোকারেজ হাউজে অনুমোদিত ভেন্ডরের মাধ্যমে অভিন্ন ও সম্পাদন-অযোগ্য (আনএডিটেবল) ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। কমিশনের বিশ্বাস, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন চালু হলে ব্রোকারেজ খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে অতীতে যেসব ঘটনায় গ্রাহকের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল, সেসব ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সম্প্রতি এক বৈঠকে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানও জানিয়েছেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর নিয়মিত ও ঘন ঘন অডিট এবং পরিদর্শনের মাধ্যমে বড় ধরনের অনিয়মের আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় ১০০টি ব্রোকারেজ হাউজ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শনের এই উদ্যোগ বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
























