বিদায়ী সপ্তাহে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৬টি কোম্পানি তাদের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকটি কোম্পানির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও, কিছু প্রতিষ্ঠানের লোকসান আরও বেড়েছে। আবার কয়েকটি কোম্পানি আগের তুলনায় আর্থিক অবস্থার উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশকারী কোম্পানিগুলো হলো— শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সিঙ্গার বাংলাদেশ, হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, আলহাজ টেক্সটাইল, প্রগতী ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স এবং প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স।
ব্যাংক খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি
প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং সাউথইস্ট ব্যাংক—এই তিনটি ব্যাংকই দ্বিতীয় প্রান্তিক এবং ছয় মাসের হিসাবে আগের বছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
যমুনা ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ইপিএস বেড়ে ২ টাকা ৯ পয়সা এবং ছয় মাসে ৪ টাকা ৩ পয়সা হয়েছে। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১ টাকা ৬৫ পয়সা ও ছয় মাসে ২ টাকা ৭৭ পয়সা হয়েছে। একইভাবে সাউথইস্ট ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৫ পয়সা, আর ছয় মাসে ১ টাকা ৬৪ পয়সা।
অন্যদিকে রূপালী ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক লোকসানে রয়েছে। রূপালী ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান ২ টাকা ৯ পয়সা, আর ছয় মাসে ৫ টাকা ৪৮ পয়সা। প্রিমিয়ার ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিকের লোকসান বেড়ে ২ টাকা ২৮ পয়সা এবং ছয় মাসে ৩ টাকা ১৫ পয়সা হয়েছে।
বীমা খাতে মুনাফার ধারা অব্যাহত
বীমা খাতের বেশিরভাগ কোম্পানিই ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশ করেছে। প্রগতী ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স—সবগুলো প্রতিষ্ঠানেরই ছয় মাসের শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।
বিশেষ করে প্রগতী ইন্স্যুরেন্সের ছয় মাসের ইপিএস ৩ টাকা ১১ পয়সা, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের ২ টাকা ১৯ পয়সা, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের ১ টাকা ৯৯ পয়সা, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের ১ টাকা ৯৪ পয়সা, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের ১ টাকা ৪৫ পয়সা এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ৫০ পয়সা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের পরিচালন নগদ প্রবাহও আগের বছরের তুলনায় উন্নত হয়েছে।
সিঙ্গারের প্রত্যাবর্তন, হাইডেলবার্গে লোকসান
বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশ দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান কাটিয়ে ১ টাকা ৩৬ পয়সা শেয়ারপ্রতি মুনাফা অর্জন করেছে। যদিও ছয় মাস শেষে কোম্পানিটি এখনও ৪ টাকা ২৪ পয়সা শেয়ারপ্রতি লোকসানে রয়েছে। একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ঋণাত্মক ২ টাকা ৫৫ পয়সা।
অন্যদিকে হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ টাকা ৯ পয়সা এবং ছয় মাসে ১ টাকা ৯৬ পয়সা শেয়ারপ্রতি লোকসানের তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে, যা ৭০ টাকা ৯৬ পয়সা।
ইউনিয়ন ক্যাপিটালের আর্থিক সংকট অব্যাহত
ইউনিয়ন ক্যাপিটালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ১৮ পয়সা এবং ছয় মাসে ২ টাকা ১২ পয়সা। একই সঙ্গে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৬৭ টাকা ৬১ পয়সা, যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক চাপের চিত্র তুলে ধরেছে।
আলহাজ টেক্সটাইল প্রকাশ করেছে তিন প্রান্তিকের হিসাব
অন্য কোম্পানিগুলোর তুলনায় আলহাজ টেক্সটাইল একসঙ্গে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫২ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫৫ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৩০ পয়সা। তবে ধারাবাহিকভাবে লোকসান কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
তিন প্রান্তিক মিলিয়ে (জুলাই ২০২৫-মার্চ ২০২৬) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৩ টাকা ৩৯ পয়সা লোকসানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে পরিচালন নগদ প্রবাহ এখনও নেতিবাচক রয়েছে এবং তৃতীয় প্রান্তিক শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৪৪ পয়সা।
সামগ্রিকভাবে সপ্তাহজুড়ে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনগুলোতে দেখা গেছে, ব্যাংক ও বীমা খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানি মুনাফা বাড়াতে সক্ষম হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও বাজারের চ্যালেঞ্জ, পরিচালন ব্যয় ও দুর্বল ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে লোকসানের চাপ কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
























