ঢাকা   রোববার ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

লোকসান পেরিয়ে মুনাফার পথে সিঙ্গার, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত

লোকসান পেরিয়ে মুনাফার পথে সিঙ্গার, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত

দীর্ঘ সময়ের আর্থিক চাপ কাটিয়ে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আবারও মুনাফার ধারায় ফিরেছে বহুজাতিক ভোক্তা ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড। পরিচালন দক্ষতার উন্নতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থায়ন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসায় প্রতিষ্ঠানটি এ সময়ে ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করেছে। তবে বছরের প্রথমার্ধের সার্বিক হিসাব এখনও লোকসানের মধ্যেই রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত মূল্য-সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩৬ পয়সা। অথচ এক বছর আগে একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ১১ পয়সা লোকসান হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে লোকসানের অবস্থান থেকে মুনাফায় ফিরেছে প্রতিষ্ঠানটি।

যদিও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে, বছরের প্রথম ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) সার্বিক ফলাফল এখনো নেতিবাচক। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান (এলপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ২৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৬ টাকা ৬১ পয়সা লোকসানের তুলনায় কম। ফলে লোকসান পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে না পারলেও পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে।

আর্থিক অবস্থার চিত্রে দেখা যায়, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক ২ টাকা ৫৫ পয়সা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ইতিবাচক ১ টাকা ৬৯ পয়সা। একই সময়ে পরিচালন নগদ প্রবাহও দুর্বল হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) নেমে এসেছে ৫ টাকা ৪৯ পয়সায়, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২ টাকা ৫২ পয়সা।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রয় আয় আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে ৮৪০ কোটি টাকা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রাজস্ব ছিল ৮১০ কোটি টাকা। তবে বাজারে ভোক্তা চাহিদা প্রত্যাশিত মাত্রায় না থাকায় বিক্রির গতি আশানুরূপ হয়নি।

সিঙ্গারের ভাষ্য, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে ভোক্তাদের ব্যয় করার প্রবণতা কমে গেছে। ফলে বাজারে চাহিদা দুর্বল থাকায় বিক্রয় প্রবৃদ্ধিও সীমিত হয়েছে।

এদিকে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের পুরোটা পণ্যের দামে সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। এরপরও পরিচালন কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ায় কোম্পানির অপারেটিং মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর ইতিবাচক প্রভাবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির কর-পূর্ব মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। অথচ এক বছর আগে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ২৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা কর-পূর্ব লোকসান হয়েছিল। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় অর্থায়ন ব্যয় ৩৫ দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে, যা মুনাফায় ফেরার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানি।

তবে ব্যবসার কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনায় এখনও চাপ রয়েছে। প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়ায় মজুত পণ্যের পরিমাণ ৯ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ছাড়া ডিলারদের অধিক ঋণ সুবিধায় পণ্য সরবরাহ এবং বিক্রির অর্থ আদায়ে ধীরগতির কারণে কোম্পানির বাণিজ্যিক পাওনা (ট্রেড রিসিভেবল) ৭৭ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে, যা নগদ প্রবাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

তবে কোম্পানির প্রত্যাশা, ডিলার ফাইন্যান্সিং কার্যক্রম, মৌসুমি ব্যবসায়িক প্রবণতা এবং সম্প্রসারিত ঋণ সুবিধার কারণে সাময়িকভাবে নগদ প্রবাহে চাপ থাকলেও চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক থেকে বাজার পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে ব্যবসার গতি বাড়বে এবং পরিচালন নগদ প্রবাহও ধীরে ধীরে ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে সিঙ্গার বাংলাদেশের প্রতিটি শেয়ারের সর্বশেষ বাজারদর ছিল ৭৬ টাকা ৯০ পয়সা।