ঢাকা   মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মার্জিন ঋণে কঠোর হচ্ছে বিএসইসি: ইক্যুইটি ৫০% এর নিচে নামলেই নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রি

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:১১, ২১ জুলাই ২০২৬

মার্জিন ঋণে কঠোর হচ্ছে বিএসইসি: ইক্যুইটি ৫০% এর নিচে নামলেই নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রি

পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণের (Margin Loan) ব্যবহার আরও নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ করতে নতুন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রস্তাবিত বিধিমালায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—কোনো বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি (নিজস্ব বিনিয়োগ) যদি মার্জিন ঋণের ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে কোনো নোটিশ ছাড়াই তার হিসাবে থাকা প্রয়োজনীয় শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারবে মার্জিন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান।

মার্জিন ঋণ কী?

সহজ ভাষায়, মার্জিন ঋণ হলো ব্রোকার বা মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে শেয়ার কেনা।

উদাহরণ:
ধরুন, আপনার নিজের টাকা ১ লাখ টাকা। ব্রোকার আপনাকে আরও ১ লাখ টাকা ঋণ দিল। এখন আপনি মোট ২ লাখ টাকার শেয়ার কিনলেন। এই অতিরিক্ত ১ লাখ টাকাই হলো মার্জিন ঋণ।

ইক্যুইটি কী?

ইক্যুইটি হলো শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য থেকে মার্জিন ঋণের টাকা বাদ দিলে আপনার নিজের অংশ।

উদাহরণ:

শেয়ার কেনা হয়েছে = ২ লাখ টাকা
মার্জিন ঋণ = ১ লাখ টাকা
আপনার ইক্যুইটি = ১ লাখ টাকা

যদি শেয়ারের দাম কমে মোট মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা হয়, তাহলে—

মোট শেয়ারের মূল্য = ১.৪০ লাখ টাকা
ঋণ = ১ লাখ টাকা
আপনার ইক্যুইটি = ৪০ হাজার টাকা

এক্ষেত্রে ইক্যুইটি ঋণের মাত্র ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫০ শতাংশের নিচে। নতুন খসড়া অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই প্রয়োজনীয় শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান।

কখন মার্জিন কল আসবে?

খসড়া অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি যদি মার্জিন ঋণের ৭০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে প্রথমে তাকে মার্জিন কল দেওয়া হবে। অর্থাৎ, অতিরিক্ত টাকা জমা দিতে বা নতুন শেয়ার যুক্ত করতে বলা হবে।

যদি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তিনি ইক্যুইটি আবার ৭০ শতাংশে তুলতে না পারেন, তাহলে নতুন করে কোনো মার্জিন ঋণ পাবেন না। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান কিছু শেয়ার বিক্রি করেও ইক্যুইটি সমন্বয় করতে পারবে।

আর কী কী পরিবর্তন আসছে?

খসড়া বিধিমালায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে—

গ্রাহকের নিজের টাকার চেয়ে বেশি মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ সর্বোচ্চ অনুপাত হবে ১:১।
প্রতিটি গ্রাহক একটি ক্যাশ হিসাব ও একটি মার্জিন হিসাব রাখতে পারবেন।
মার্জিন চুক্তির মেয়াদ হবে এক বছর, পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে।
প্রতিটি মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মূলধনের পাঁচ গুণের বেশি মার্জিন ঋণ দিতে পারবে না।
মার্জিন অর্থায়নের জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব পরিচালনা বাধ্যতামূলক করা হবে।
এখনই কি এই নিয়ম কার্যকর?

না। এটি চূড়ান্ত বিধিমালা নয়, বরং একটি খসড়া প্রস্তাব। বিএসইসি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি গ্রহণ করবে। সেসব পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় সংশোধন করে সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বিধিমালা কার্যকর করা হবে।

কেন এই পরিবর্তন?

বিএসইসির লক্ষ্য হলো মার্জিন ঋণের অপব্যবহার কমানো, অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিনিয়োগকারী ও বাজার—উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে বাজারে বড় ধরনের দরপতনের সময় যেন অতিরিক্ত ঋণের কারণে আর্থিক ঝুঁকি না বাড়ে, সেই বিষয়টিকেই নতুন বিধিমালায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।