ঢাকা   মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

৬ মাসের আল্টিমেটাম পুঁজিবাজারের ৮ ব্যাংককে

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৪০, ২০ জুলাই ২০২৬

৬ মাসের আল্টিমেটাম পুঁজিবাজারের ৮ ব্যাংককে

দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি থাকা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আট ব্যাংককে আগামী ছয় মাসের মধ্যে তা কমিয়ে ১০ শতাংশের নিচে নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির (এএমসি) কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

বিশেষ নজরদারিতে থাকা ব্যাংকগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।

খেলাপি ঋণ কমানোর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ১২ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে নতুন করে খেলাপি ঋণ সৃষ্টি বন্ধ করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে পুনঃতফসিল করা ঋণের ওপর নিবিড় নজরদারি, বড় ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায় জোরদার এবং কৃষি ও এসএমই খাতের গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টক্সিক অ্যাসেট ব্যালান্সশিটে রেখে অনাদায়ী সুদকে আয় হিসেবে দেখিয়ে লভ্যাংশ বিতরণ না করার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, বারবার পুনঃতফসিল হওয়া ঋণ এডিআর, এক্সিট সুবিধা অথবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। দীর্ঘদিনের শ্রেণিকৃত ঋণ অবলোপনের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় মূলধন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। একই সময়ে ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, ছয় মাসের এই সময়সীমার মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আট ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে কতটা সফল হতে পারে।