ঢাকা   সোমবার ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২১, ৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দুই আলোচিত কোম্পানি—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন মূল্যসীমা) প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। দীর্ঘদিন পর নেওয়া এ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী মঙ্গলবার থেকে কোম্পানি দুটির শেয়ার ফ্লোর প্রাইস ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে লেনদেন হবে।

সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত বিএসইসির বিশেষ কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কমিশনের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারির পর তা কার্যকর হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে দুই কোম্পানির শেয়ার বাজারের স্বাভাবিক নিয়মে লেনদেন হবে।

সোমবার পর্যন্ত বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১১০ টাকা ১০ পয়সা এবং ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে ছিল ৩২ টাকা ৬০ পয়সা। ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ায় এখন থেকে শেয়ার দুটির দর চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

বিএসইসির মতে, সেকেন্ডারি মার্কেটে ফ্লোর প্রাইস আরোপ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা প্রচলিত কোনো নিয়ম নয়। একটি শেয়ারের মূল্য বিনিয়োগকারীদের ক্রয়-বিক্রয় আগ্রহের ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। নির্দিষ্ট কোনো শেয়ারের দর কৃত্রিমভাবে আটকে রাখা বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কমিশনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ফ্লোর প্রাইসের ধারণা মূলত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বা প্রাইমারি মার্কেটের ক্ষেত্রে বেশি প্রাসঙ্গিক। নতুন কোনো কোম্পানি বাজারে এলে তার পূর্ববর্তী লেনদেনের ইতিহাস না থাকায় একটি প্রারম্ভিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ারের মূল্য প্রতিনিয়ত লেনদেনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তাই সেখানে ফ্লোর প্রাইস ধরে রাখার যৌক্তিকতা কম।স্টক মার্কেট ডেটা

উল্লেখ্য, করোনা মহামারির শুরুতে বাজারে অস্বাভাবিক দরপতন ঠেকাতে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থা চালু করা হয়। সে সময় বিএসইসির চেয়ারম্যান ছিলেন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার থেকে এ মূল্যসীমা তুলে নেওয়া হয়।


সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট খুলনা পাওয়ার, শাহজিবাজার পাওয়ার, বিএসআরএম লিমিটেড এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা বহাল ছিল। অবশেষে সোমবারের বিশেষ কমিশন সভায় এ দুই কোম্পানির ক্ষেত্রেও ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সর্বশেষ