বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার কমিশনারের পদত্যাগ এবং নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। অবশেষে সেই দাবির বাস্তবায়ন হওয়ায় পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকে কিছুটা সংশোধনের আশঙ্কা ছিল। কারণ টানা সাত কার্যদিবসের উত্থানের পর স্বাভাবিকভাবেই অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বাজারে ক্রয়চাপ বেড়ে যায় এবং দিনজুড়ে সূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে থাকে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা আট কার্যদিবস ধরে সূচকের উত্থান এবং একই সঙ্গে লেনদেন বৃদ্ধির প্রবণতা বাজারে নতুন আশাবাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত স্থিতিশীলতা, জবাবদিহিতা এবং বিনিয়োগবান্ধব সিদ্ধান্তের অভাবে আস্থাহীনতায় ভুগছিলেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন কমিশন যদি বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, কারসাজি নিয়ন্ত্রণ, ভালো কোম্পানিকে উৎসাহ প্রদান এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, তাহলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক ধারা তৈরি হবে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৩ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ৯ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৮ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ডিএসই-৩০ সূচক ১১ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৮ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২৪২টির দর বেড়েছে, ১০৪টির কমেছে এবং ৪৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল। যা বাজারে ক্রেতাদের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৭৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৭২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল। এদিন সিএসইতে মোট ২৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫২টির দর বেড়েছে, ৭৪টির কমেছে এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল। দিনশেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮২ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএসইসিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে যদি কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পুঁজিবাজারে নতুন গতি ফিরে আসতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হলে বাজারে সুদিন ফেরার সম্ভাবনাও আরও জোরালো হবে।























