ঢাকা   সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

২২ কোটি টাকার রাতের লেনদেন, ন্যাশনাল ব্যাংকে দুদকের অভিযান

২২ কোটি টাকার রাতের লেনদেন, ন্যাশনাল ব্যাংকে দুদকের অভিযান

ব্যাংকের নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর রাতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলনের ঘটনাকে ঘিরে তদন্তে নতুন গতি এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ব্যাংকটির ১৬ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পৃথক নোটিশ পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ৪ আগস্ট কমিশনের সামনে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষর করা চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সোমবার (৩ আগস্ট) জানা গেছে।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মেসার্স ইমপ্যাক্ট কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের নামে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে ন্যাশনাল ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের ১৬ জন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দিলকুশা শাখার এসভিপি আশরাফ উদ্দিন আহমেদ, কোম্পানি সেক্রেটারি মো. কায়সার রশীদ, বনানী শাখার ব্যবস্থাপক ও ইভিপি অলোক কুমার বিশ্বাস, এসভিপি খান মুহাম্মদ মোয়েদ আজিজ, কাজী কামাল উদ্দিন আহমেদ, হোসাইন আক্তার চৌধুরী, মো. মনিরুজ্জামান, জহির উদ্দিন আহমেদ, আশীষ কুমার লস্কর, ভিপি অরুণ কুমার হালদার, সেলিমা আক্তার, রফিকুর আলম, মুর্শেদ কামাল, আবু জাকারিয়া, ভিপি মুনিরম চন্দ এবং ইভিপি জহিরুল ইসলাম।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখা থেকে অফিস সময়ের অনেক পরে রাত ৮টার পর ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে শাখা ব্যবস্থাপককে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। একই আদেশে এ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। আদালতের সেই নির্দেশনার পরই দুদক বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে।

তদন্তে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর গুলশান করপোরেট শাখা থেকে রাতের বেলায় ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা নগদ অর্থ ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্ণধার আলী হায়দার রতনের কাছে দেওয়া হয়। সেদিন বিকেলে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সংশ্লিষ্ট ঋণ নবায়নের অনুমোদন দেয় এবং সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে সেই সিদ্ধান্ত শাখায় পৌঁছে যায়। এরপর রাত ৮টা ২৩ মিনিট থেকে ৯টা ৪ মিনিটের মধ্যে পুরো অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, একই দিনের পরিচালনা পর্ষদের ৪৭৫তম সভায় ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের ঋণ নবায়নের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। প্রস্তাবে উল্লেখ ছিল, প্রতিষ্ঠানটির নামে অনুমোদিত সীমার বাইরে ৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে এবং অন্য একটি ব্যাংকে তাদের ঋণ খেলাপির রেকর্ডও রয়েছে। এসব তথ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ নবায়নের অনুমোদন কার্যকর হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ পায়।