সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো একবারে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ১ম থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আজ বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর নতুন কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন ভাতা দেওয়া শুরু হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এখন নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির কাজ শুরু হবে। এ জন্য এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিই নতুন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে।
আগের কমিশনের সুপারিশে ছিল ১০০–১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন এ বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান।
জাকির আহমেদ খান কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কমিশনের হিসাবে, বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে কমিশন জানিয়েছিল।
তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি নেতৃত্বাধীন কমিটি বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশের বেশি করার সুপারিশ করেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। কমিটি দুই বছরে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব ছিল।
ধাপে ধাপে বাড়বে মূল বেতন
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা প্রস্তাবের সঙ্গে আগের সুপারিশের কিছু পার্থক্য রয়েছে। নতুন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও মূল বেতন একবারে পুরোপুরি দেওয়া হবে না; ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।
























