ঢাকা   রোববার ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

১২ আবেদনকারীর মধ্যে ৮টি ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদনের পথে

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৩০, ৩০ আগস্ট ২০২৬

১২ আবেদনকারীর মধ্যে ৮টি ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদনের পথে

দেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটটিকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়েছে। আগামী বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় এসব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব উঠতে পারে।

ডিজিটাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যাংকের মতো শাখা, উপশাখা বা নিজস্ব এটিএম থাকবে না। মোবাইল ফোন ও অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা হিসাব খোলা, টাকা জমা, অর্থ স্থানান্তর, লেনদেন এবং ঋণের আবেদনসহ প্রায় সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন। ভার্চুয়াল কার্ড ও কিউআর কোডের মতো প্রযুক্তিনির্ভর সেবাও থাকবে এসব ব্যাংকে।

এক প্রতিবেদনে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে আটটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তবে কোন আটটি প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

দ্বিতীয় দফার আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছে রবি আজিয়াটার ‘বুস্ট’, বাংলালিংক ও স্কয়ারের যৌথ উদ্যোগ ‘নোভা ডিজিটাল ব্যাংক’, আকিজ রিসোর্সের ‘মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক’, আশার ‘মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক’, ‘আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২’, ‘৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক’, ‘ব্রিটিশ-বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক’, ভুটানের ডিকে ব্যাংকের ‘ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান’, অ্যাপ ব্যাংক, জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক ও বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ, তরুণ উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী এর মাধ্যমে সহজে আর্থিক সেবার আওতায় আসতে পারে।

ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী বলেন, ডিজিটাল ব্যাংকের মাধ্যমে কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে তরুণদের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে প্রতিযোগিতা বাড়লে প্রচলিত ব্যাংকগুলোও প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ব্যবসায়িক মডেল আধুনিক করতে উৎসাহিত হবে। তবে প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় বড় বিনিয়োগ, গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা, সচেতনতার ঘাটতি এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০২৩ সালে। এরপর দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও নীতিমালা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফায় আবেদন নেওয়া হয়। এ দফায় আবেদনকারীদের মূলধন, উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন শর্ত পূরণের বিষয় মূল্যায়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, দ্বিতীয় দফায় জমা পড়া আবেদনগুলোর মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী পর্ষদ সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে এবং সেখানে চূড়ান্ত লাইসেন্সের অনুমোদন দেওয়া হবে।