মাত্র ৩৫ দিনে ৯ লাখ ৬৭ হাজার শেয়ার নিয়ে ১৩টি ম্যাচড ও সার্কুলার ট্রেড করে তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লভেলো আইসক্রিমের শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ সময়ে শেয়ারটির দাম ৭৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ৯৮ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছায়। এই কারসাজির মাধ্যমে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকার বাস্তবায়িত মূলধনি মুনাফা ও ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অনাদায়ী মূলধনি মুনাফার হিসাব পেয়েছে তদন্তে। এ ঘটনায় একটি মার্চেন্ট ব্যাংক, একটি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও তিন ব্যক্তিকে মোট ৩৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এনফোর্সমেন্ট আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই জরিমানা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত লভেলোর শেয়ার লেনদেন পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা অস্বাভাবিক লেনদেন ও দরবৃদ্ধির তথ্য পান।
তদন্তে দেখা যায়, ওই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৭৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ৯৮ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়ায়। এ সময়ে কোম্পানিটির মোট শেয়ার লেনদেনের ২২ দশমিক ৩০ শতাংশ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট একটি আন্তঃসংযুক্ত গোষ্ঠী।
ডিএসইর অনুসন্ধান অনুযায়ী, সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের মালিক ঝুয়াং লিফেংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের মাধ্যমে এই লেনদেনের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এমপ্লয়িজ কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড, প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভাগের প্রধান এইচএম রুবাইয়াত, তাঁর স্ত্রী শায়লা আক্তার এবং ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্ল্যানিং) রাজন কুমার সাহা।
তদন্তে উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ৯ লাখ ৬৭ হাজার ১২৫টি শেয়ার নিয়ে ১৩টি ম্যাচড বা সার্কুলার ট্রানজেকশন সম্পন্ন করে। এ ধরনের লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিমভাবে লেনদেনের গতি তৈরি এবং শেয়ারের দাম প্রভাবিত করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তদন্তের হিসাবে, এই লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা ২ কোটি ২৪ লাখ টাকার বাস্তবায়িত মূলধনি মুনাফা এবং ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার অনাদায়ী মূলধনি মুনাফা অর্জন করে।
বিএসইসির আদেশে লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এমপ্লয়িজ কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ডকে সর্বোচ্চ ১৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সিবিসি ক্যাপিটালকে জরিমানা করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, এইচএম রুবাইয়াতকে ৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা, শায়লা আক্তারকে ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং রাজন কুমার সাহাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর দুটি ধারা লঙ্ঘনের দায়ে এই জরিমানা আরোপ করা হয়। কৃত্রিম ও বিভ্রান্তিকর লেনদেন সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে অতিরিক্ত অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।
এনফোর্সমেন্ট শুনানিতে অভিযুক্তরা বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁদের কেউ মার্চেন্ট ব্যাংকের ওপর পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকার কথা বলেন, কেউ সিকিউরিটিজ আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা কিংবা ধর্মীয় তীর্থযাত্রার কারণে সাময়িক অনুপস্থিতির কথা জানান। সিবিসি ক্যাপিটালের পরিচালনা পর্ষদ দাবি করে, তৎকালীন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রধান নির্বাহীর অননুমোদিত পদক্ষেপের কারণে এসব লেনদেন হয়েছিল।
তবে এসব যুক্তি গ্রহণ করেনি বিএসইসি। কমিশনের বক্তব্য, কোনো হিসাবধারী বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার দায় এড়াতে পারে না। আদেশে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ বিএসইসির অনুকূলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
























