ঢাকা   শনিবার ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

কম দামি শেয়ারে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা, বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১২, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

কম দামি শেয়ারে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা, বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের তুলনায় কম দামি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। স্বল্প পুঁজিতে বেশি সংখ্যক শেয়ার কেনা এবং অল্প সময়ে বড় মুনাফার আশায় অনেকেই ঝুঁকছেন এসব শেয়ারে। তবে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি ও প্রকৃত মূল্যায়ন যাচাই না করে শুধু কম দাম দেখে বিনিয়োগের এ প্রবণতা বাজারে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এতে হঠাৎ দরপতনের মুখে পড়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক কার্যদিবসগুলোতে লেনদেনের শীর্ষ তালিকা ও দরবৃদ্ধির শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসছে বিভিন্ন স্বল্পমূল্যের কোম্পানির শেয়ার। দ্রুত মুনাফা অর্জনের আশায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এসব শেয়ারের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিপরীতে, ভালো মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ারে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ফলে কিছু কম দামি শেয়ারে চাহিদা বাড়লেও সেই প্রবণতার পেছনে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা কতটা ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেয়ারবাজারে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এ প্রবণতার অন্যতম কারণ হতে পারে। ভালো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা না পাওয়ার হতাশা থেকে অনেকে দ্রুত দর বাড়তে পারে—এমন শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন। কম দামে বেশি সংখ্যক শেয়ার কেনার সুযোগও খুচরা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। তবে শেয়ারের দাম কম হলেই সেটি বিনিয়োগের জন্য ভালো—এমন ধারণা বিপজ্জনক হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা শেয়ারনিউজকে জানান, শুধু শেয়ারের বাজারদর বিবেচনা করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কোম্পানির আয়, মুনাফা, সম্পদ, দায় ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিশ্লেষণ না করে শেয়ার কিনলে লোকসানের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বাজারে গুজব, অতিরিক্ত প্রত্যাশা কিংবা সাময়িক চাহিদার কারণে শেয়ারের দাম বাড়তে পারে। কিন্তু সেই দরবৃদ্ধির সঙ্গে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার সামঞ্জস্য না থাকলে পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের দরপতন ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ারবাজারে টেকসই বিনিয়োগের জন্য কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা ও শেয়ারের মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিনিয়োগের আগে কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, আয় ও নগদ প্রবাহ, ঋণের পরিমাণ এবং লভ্যাংশ দেওয়ার ইতিহাস পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি, গুজবনির্ভর লেনদেন ও অতিরিক্ত মুনাফার প্রত্যাশা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অস্বাভাবিক লেনদেন ও দরবৃদ্ধির বিষয়েও নজরদারি জরুরি। কারণ, কোম্পানির মৌলভিত্তির পরিবর্তে শুধু কম দাম ও দ্রুত মুনাফার প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগ বাড়লে সাময়িকভাবে কিছু শেয়ারের চাহিদা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

সর্বশেষ