ঢাকা   বুধবার ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটাতে বেক্সিমকো-শাইনপুকুরে নতুন পর্ষদ, বাদ সালমান এফ রহমান

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:১৩, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটাতে বেক্সিমকো-শাইনপুকুরে নতুন পর্ষদ, বাদ সালমান এফ রহমান

দীর্ঘদিন পরিচালনা পর্ষদ না থাকা, আর্থিক ও আইনি জটিলতা এবং কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া—এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকস পিএলসি। এ লক্ষ্যেই কোম্পানি দুটির নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন—বিএসইসি।

নতুন পর্ষদে বেক্সিমকো গ্রুপের সহ-সভাপতি সালমান এফ রহমানকে রাখা হয়নি। এর ফলে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম সালমান এফ রহমানকে ছাড়া বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানি পরিচালিত হতে যাচ্ছে।

বিএসইসির সাম্প্রতিক বৈঠকে কোম্পানি দুটির জন্য সাত সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর আগে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের জন্য নয় সদস্যের নতুন পর্ষদ অনুমোদন করেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

নতুন দুই পর্ষদেই সালমান এফ রহমানের ভাই এএসএফ রহমান প্রতিষ্ঠাতা স্পন্সর হিসেবে থাকছেন। পাশাপাশি কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড অনুসরণ করে স্বতন্ত্র পরিচালকও রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে একাধিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন সালমান এফ রহমান। এ সময় বেক্সিমকো গ্রুপের ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়া, কাঁচামালের সংকট এবং আর্থিক জটিলতায় গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রায় এক ডজন কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ৪০ হাজারের বেশি শ্রমিক চাকরি হারান বা কর্মহীন হয়ে পড়েন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বেক্সিমকো গ্রুপের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা, অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়।

অচলাবস্থার আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে। পরিচালনা পর্ষদ না থাকা ও আইনি জটিলতার কারণে গত পাঁচ প্রান্তিকে কোম্পানিগুলো নিয়মিত আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করতে পারেনি। ফলে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন নিয়ম পরিপালন নিয়েও তৈরি হয় জটিলতা।

এ অবস্থায় নতুন পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে কোম্পানি দুটির নিয়মিত কার্যক্রমে ফেরার পথ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারের নিয়মকানুন পরিপালন এবং বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর পর্ষদ পুনর্গঠনের এই সিদ্ধান্তকে বেক্সিমকো গ্রুপের বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু এবং স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফেরার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এখন বড় প্রশ্ন—নতুন পর্ষদ গঠনের পর কত দ্রুত উৎপাদন শুরু হবে, আর্থিক সংকট কতটা কাটবে এবং শেয়ারবাজারে কোম্পানিগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম ও আর্থিক তথ্য প্রকাশ কতটা স্বাভাবিক হবে।

সর্বশেষ