টানা চার কার্যদিবস দরপতনের পর আবারও একদিনের উত্থানে ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। শুধু চলতি সপ্তাহেই নয়, আগের সপ্তাহেও একই ধারায় চার দিন পতনের পর সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে সূচকের উত্থান হয়েছিল। একই ধরনের প্রবণতার পুনরাবৃত্তিতে বাজারের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের ধারাবাহিকতা বাজারে কোনো চক্রের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, টানা চার দিন দরপতনের পর একই ধরনের সময়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। বিশেষ করে আগের সপ্তাহের মতো চলতি সপ্তাহেও বুধবার, অর্থাৎ সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে সূচকের উত্থান হওয়ায় বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
তাদের ভাষ্য, নতুন কমিশনের সময়ে বাজার পর্যবেক্ষণ ও তদারকিতে ঘাটতি রয়েছে। যথাযথভাবে বাজার মনিটরিং করা হলে একই ধরনের পতন ও উত্থানের পুনরাবৃত্তি এবং এর পেছনে কোনো কারসাজি বা পরিকল্পিত লেনদেন রয়েছে কি না, তা আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো।
বাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, আগের সপ্তাহ ও চলতি সপ্তাহের একই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসেও আবার দরপতনের চাপ তৈরি হতে পারে। এতে একদিকে সূচক আরও নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
তাদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে শুধু সূচকের দৈনিক ওঠানামা পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট নয়; কোন শেয়ারে কী ধরনের লেনদেন হচ্ছে, কারা সক্রিয়ভাবে লেনদেন করছে এবং অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তনের পেছনে কোনো সমন্বিত কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না—এসব বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
এদিকে, বুধবার (৭ অক্টোবর) সূচকের উত্থানের পাশাপাশি দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টাকার অঙ্কে লেনদেনও বেড়েছে। তবে বাজারে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৮ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৩ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সময়ে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১১ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৬ দশমিক ০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির সূচক ডিএসই-৩০ বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট। দিন শেষে এ সূচকটির অবস্থান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৬ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৯১টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে ১৩৪টির দর কমেছে এবং ৬৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
দিন শেষে ডিএসইতে মোট প্রায় ৬০৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ফলে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বুধবার মোট ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন কমেছে।
সিএসইতে এদিন মোট ১৬৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৮৫টির দর কমেছে এবং ১৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
দিন শেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৯৮ দশমিক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৬৫৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে সূচকটি ৬২ দশমিক ৯১ পয়েন্ট কমেছিল।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা পতন ও একদিনের উত্থানের এই পুনরাবৃত্তি বন্ধ করে বাজারে টেকসই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও সক্রিয় ও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি বা কৃত্রিমভাবে সূচক প্রভাবিত করার চেষ্টা থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
























