ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সিমটেক্সে মুনাফা-নগদ প্রবাহে বড় উন্নতি, ডিভিডেন্ড বাড়ার সম্ভাবনা

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:১৯, ১ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

সিমটেক্সে মুনাফা-নগদ প্রবাহে বড় উন্নতি, ডিভিডেন্ড বাড়ার সম্ভাবনা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের চলতি ২০২৫-২৬ হিসাববছরের প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। মুনাফার পাশাপাশি পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে পাওনা অর্থ সংগ্রহ ও রপ্তানি আয় আদায়েও অগ্রগতি হয়েছে। ফলে পুরো বছরের ফলাফল ইতিবাচক থাকলে আগের বছরের তুলনায় ডিভিডেন্ড বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল ও পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের ওপর।

কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ সময়ে সিমটেক্সের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ২৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৮ পয়সা। অর্থাৎ বছরের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফায় সামান্য চাপ দেখা গেলেও পরবর্তী দুই প্রান্তিকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে পরিচালন নগদ প্রবাহে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৯ পয়সায়। আগের বছরের একই সময়ে এই প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ৫৫ পয়সা। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্রয়লব্ধ অর্থ সংগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনায় উন্নতির কারণে নগদ প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফার প্রবৃদ্ধিও স্পষ্ট হয়। অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৩ পয়সা। অর্থাৎ একক প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে ৮ পয়সা।

এর ফলে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫, অর্থাৎ ছয় মাসে সিমটেক্সের শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৬৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬১ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৪ পয়সা, যেখানে আগের বছরের ছয় মাসে তা ছিল ঋণাত্মক ৬৩ পয়সা।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, পাওনা অর্থ আদায় এবং রপ্তানি আয়ের অর্থ সংগ্রহ বৃদ্ধির ফলে নগদে রূপান্তরের সক্ষমতা বেড়েছে। যদিও সরবরাহকারী, কর্মী ও অন্যান্য খাতে নগদ পরিশোধ এবং আয়কর পরিশোধ আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে, তবুও মোট নগদ সংগ্রহ বহির্গমনের চেয়ে বেশি থাকায় পরিচালন নগদ প্রবাহ ইতিবাচক হয়েছে।

তৃতীয় প্রান্তিকেও মুনাফার প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬ পয়সা।

সব মিলিয়ে জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে সিমটেক্সের শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৯৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ৯ পয়সা।

নগদ প্রবাহের চিত্র আরও শক্তিশালী। নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ২ টাকা ৬৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল মাত্র ৫৮ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে।

তবে একই সময়ে নিট সম্পদমূল্যে সামান্য চাপ রয়েছে। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৩৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে যা ছিল ২২ টাকা ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে এনএভি কমেছে ৪ পয়সা। এর মধ্যে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে এনএভি ছিল ২২ টাকা ৬৯ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ২২ টাকা ১০ পয়সা।

এদিকে ঋণমানের দিক থেকেও কোম্পানিটির অবস্থান স্থিতিশীল। ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজকে দীর্ঘমেয়াদে ‘এ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৩’ রেটিং দিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির জন্য স্থিতিশীল পূর্বাভাস রাখা হয়েছে। নির্ধারিত রেটিংয়ের ক্ষেত্রে কোম্পানির নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ডিভিডেন্ডের বিষয়টিও এখন বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত হিসাববছরে সিমটেক্স ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। এর বিপরীতে চলতি হিসাববছরের প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় ৮৭ পয়সা থেকে বেড়ে ৯৬ পয়সায় এবং শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ৫৮ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৬৭ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।

তবে এই তথ্যের ভিত্তিতে সরাসরি ডিভিডেন্ড বাড়বে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পুরো বছরের মুনাফা, পরিচালন নগদ প্রবাহ, আর্থিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক প্রয়োজন বিবেচনা করেই পরিচালনা পর্ষদ ডিভিডেন্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

কোম্পানির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সূচি হলো ১০ অক্টোবর ২০২৬। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পাশাপাশি ডিভিডেন্ডের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সব মিলিয়ে, চলতি হিসাববছরের নয় মাসে সিমটেক্সের মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচালন নগদ প্রবাহে বড় উন্নতি এবং পাওনা ও রপ্তানি আয় আদায়ে অগ্রগতি কোম্পানিটির আর্থিক সক্ষমতার ইতিবাচক পরিবর্তন তুলে ধরছে। এখন পুরো বছরের নিরীক্ষিত ফলাফল এবং ১০ অক্টোবরের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে বিনিয়োগকারীদের জন্য চূড়ান্ত ডিভিডেন্ড কতটা আকর্ষণীয় হয়।

সর্বশেষ