ঢাকা   সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দরপতনেই মুনাফার সুযোগ দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০০, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দরপতনেই মুনাফার সুযোগ দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা

শেয়ারবাজারে দরপতন মানেই শুধু লোকসান নয়; বরং সঠিক কৌশল ও ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি বাছাই করতে পারলে পতনের বাজারেও কম দামে শেয়ার সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, বাজারে পতন দেখা দিলে আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ভালো কোম্পানির শেয়ার তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে পরবর্তী সময়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ালে মুনাফার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, উচ্চ দরে দুর্বল বা বিতর্কিত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে বাজারের পতনের সময় লোকসানের ঝুঁকি বাড়ে। বিপরীতে, শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ার যৌক্তিক দরে সংগ্রহ করে উপযুক্ত সময় পর্যন্ত ধরে রাখার কৌশল দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে।

তাদের মতে, বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামার অংশ হিসেবে দরপতনকে বিবেচনা করা উচিত। টানা উত্থান যেমন স্থায়ী হয় না, তেমনি প্রতিটি পতনও দীর্ঘস্থায়ী হবে—এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। ফলে সাময়িক দরপতনে আতঙ্কিত হয়ে লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ডিভিডেন্ড মৌসুমে ভালো শেয়ারে নজর

এদিকে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর অনেকেই এরই মধ্যে আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ফলে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি এবং তুলনামূলক আকর্ষণীয় দরে লেনদেন হওয়া শেয়ারের প্রতি নজর দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, শুধু শেয়ারের বর্তমান দর নয়, কোম্পানির আয়, মুনাফা, নগদ প্রবাহ, সম্পদমূল্য, ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

সপ্তাহের প্রথম দিনেই সূচকের বড় পতন

এর মধ্যেই গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে দেশের দুই শেয়ারবাজারে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।

দিনের বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই দরপতনের ফলে বেশ কিছু ভালো কোম্পানির শেয়ার তুলনামূলক কম দরে কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে কোনো শেয়ারে বিনিয়োগের আগে কোম্পানির মৌলভিত্তি ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন।

ডিএসইর তিন সূচকই কমেছে

রোববার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৫ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩২ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১২ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৩ দশমিক ৩০ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১২ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৯ দশমিক ২৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৭৭টির কমেছে এবং ৩৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেন কমেছে প্রায় ২৯ কোটি টাকা

রোববার ডিএসইতে মোট প্রায় ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

অর্থাৎ আগের কার্যদিবসের তুলনায় ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

সিএসইতেও সূচকের পতন, বেড়েছে লেনদেন

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন সূচকের পাশাপাশি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। তবে টাকার অঙ্কে লেনদেন বেড়েছে।

সিএসইতে রোববার মোট ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

দিনটিতে সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৬টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৯০টির কমেছে এবং ২৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৮ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৮৩ দশমিক ৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে সূচকটি ৪১ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বেড়েছিল।

সব মিলিয়ে, বাজারে স্বল্পমেয়াদি ওঠানামার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানিভিত্তিক বিশ্লেষণের গুরুত্বও বাড়ছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দরপতনের সময়ে আতঙ্কের পরিবর্তে কোম্পানির মৌলভিত্তি ও মূল্যায়ন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।