শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি এপেক্স ফুডস লিমিটেডের আর্থিক সূচকে ধারাবাহিক উন্নতি হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে, ঋণাত্মক অবস্থা থেকে পরিচালন নগদ প্রবাহে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্যও (এনএভি) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এবার বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ডের ঘোষণা আসতে পারে।
এ লক্ষ্যে আগামী ৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে ২০২৫ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ নগদ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।
নয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ৯৩ পয়সা
কোম্পানির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ প্রান্তিকে এপেক্স ফুডসের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা।
অন্যদিকে, জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৫২ পয়সা।
অর্থাৎ, নয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এপেক্স ফুডসের শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৯৩ পয়সা।
কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে রাজস্ব এবং অর্থায়ন ও অন্যান্য আয় বৃদ্ধির কারণে ইপিএস বেড়েছে।
ঋণাত্মক থেকে শক্তিশালী হয়েছে নগদ প্রবাহ
এপেক্স ফুডসের পরিচালন নগদ প্রবাহেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৩৭ টাকা ৪১ পয়সা।
আগের বছরের একই সময়ে এই সূচক ছিল ঋণাত্মক ২৫ টাকা ১৭ পয়সা।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে পরিচালন নগদ প্রবাহে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাজস্ব থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় এ উন্নতি হয়েছে।
এনএভি বেড়েছে ৪০ টাকা
কোম্পানিটির সম্পদমূল্যও বেড়েছে। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে এপেক্স ফুডসের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৬৬ টাকা ২৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে এনএভি ছিল ১২৬ টাকা ৫ পয়সা।
অর্থাৎ, নয় মাসে শেয়ারপ্রতি এনএভি বেড়েছে ৪০ টাকা ২৪ পয়সা।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগ করা শেয়ারের বাজারদর বেড়ে যাওয়াই এনএভি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
ছয় মাসেও উন্নতির ধারায় ছিল কোম্পানি
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেও এপেক্স ফুডসের আর্থিক সূচকে উন্নতি দেখা যায়। অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৬৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩২ পয়সা।
এ ছাড়া জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৫২ পয়সা। অর্থাৎ, ছয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ৯৯ পয়সা।
একই সময়ে পরিচালন নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ১১ টাকা ৬৫ পয়সা হলেও আগের বছরের ঋণাত্মক ৪৭ টাকা ৭৮ পয়সার তুলনায় ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এ সময় শেয়ারপ্রতি এনএভিও বেড়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এনএভি ছিল ১৫৮ টাকা ৭১ পয়সা, যা ৩০ জুন ২০২৫-এর ১২৬ টাকা ৫ পয়সার তুলনায় ৩২ টাকা ৬৬ পয়সা বেশি।
প্রথম প্রান্তিকেও বেড়েছিল ইপিএস
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও কোম্পানিটির ইপিএস আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছিল। জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ সময়ে ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২ টাকা ২০ পয়সা।
অর্থাৎ, প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে ৩১ পয়সা।
একই সময়ে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ১৯ টাকা ৩৯ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ঋণাত্মক ১২ টাকা ১৯ পয়সা।
এ ছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি এনএভি দাঁড়ায় ১৫৫ টাকা ৯৬ পয়সা, যা ৩০ জুন ২০২৫-এর ১২৬ টাকা ৫ পয়সার তুলনায় ২৯ টাকা ৯১ পয়সা বেশি।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাজস্ব থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ করা শেয়ারের বাজারদর বাড়ার কারণে যথাক্রমে পরিচালন নগদ প্রবাহ ও এনএভিতে উন্নতি হয়েছে।
এখন ৪ অক্টোবরের বোর্ড সভায় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কী পরিমাণ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের।
























