ঢাকা   শুক্রবার ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

ছয় মাসে প্রিমিয়ার ব্যাংকের লোকসান ১৮৪% বৃদ্ধি: কতটা সতর্কবার্তা?

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৪৮, ২৪ জুলাই ২০২৬

ছয় মাসে প্রিমিয়ার ব্যাংকের লোকসান ১৮৪% বৃদ্ধি: কতটা সতর্কবার্তা?

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) এক বছরের ব্যবধানে ১৮৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১৫ পয়সায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ১১ পয়সা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

শুধু ছয় মাসের হিসাবেই নয়, দ্বিতীয় প্রান্তিকেও লোকসান বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এপ্রিল-জুন সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ২৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩৩ পয়সা। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় প্রান্তিকের লোকসান প্রায় ৭১ শতাংশ বেড়েছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুদ আয় কমে যাওয়াই লোকসান বৃদ্ধির প্রধান কারণ। একই সঙ্গে পরিচালন লোকসান বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) কমে ১০ টাকা ৪৪ পয়সায় নেমে এসেছে। যদিও অন্যান্য ব্যাংক ও এজেন্টদের কাছ থেকে বেশি ঋণ নেওয়ার কারণে পরিচালন নগদ প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে, তবে সেটি মূল ব্যবসার দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়।

বিনিয়োগকারীদের জন্য এর অর্থ কী?

ব্যাংকের লোকসান বৃদ্ধি শুধু একটি হিসাবগত তথ্য নয়; এটি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়।

প্রথমত, ক্রমাগত লোকসান বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে লভ্যাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। কারণ লাভ না থাকলে নগদ বা বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয়ত, নিট সম্পদমূল্য কমে যাওয়া ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তৃতীয়ত, সুদ আয় কমে যাওয়া ব্যাংকের মূল ব্যবসায় চাপের প্রতিফলন। একটি ব্যাংকের প্রধান আয়ের উৎসই হলো ঋণের সুদ। এই আয় কমে গেলে ভবিষ্যৎ মুনাফা পুনরুদ্ধার করাও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

একটি সহজ উদাহরণ

ধরা যাক, একজন বিনিয়োগকারী ১ লাখ টাকা দিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ার কিনেছেন এই প্রত্যাশায় যে ব্যাংকটি ভবিষ্যতে ভালো মুনাফা করবে এবং নিয়মিত লভ্যাংশ দেবে।

কিন্তু যদি ব্যাংকের লোকসান ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে—

লভ্যাংশ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
শেয়ারের বাজারদর আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।
প্রয়োজনের সময় শেয়ার বিক্রি করতে গেলে বিনিয়োগকারী মূলধনের একটি অংশ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

অর্থাৎ, কাগজে-কলমে লোকসান বাড়ার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীর প্রকৃত রিটার্নেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এখন কী দেখবেন বিনিয়োগকারীরা?

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু একটি প্রান্তিকের ফলাফল দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তবে কয়েকটি বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন—

আগামী প্রান্তিকগুলোতে ব্যাংকটি লোকসান কমাতে পারে কি না।
সুদ আয় আবার বাড়তে শুরু করে কি না।
খেলাপি ঋণ ও পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আসে কি না।
মূলধন ও নিট সম্পদমূল্যের অবনতি থেমে যায় কি না।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ব্যাংকটি বর্তমানে আয়, মুনাফা ও সম্পদমূল্য—তিন দিক থেকেই চাপে রয়েছে। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লোকসানের কারণ হিসেবে সুদ আয় কমে যাওয়ার কথা বলেছে, তবে ধারাবাহিকভাবে এমন প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও শেয়ারের মূল্য উভয়ের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বর্তমান ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাংকটির পরবর্তী আর্থিক ফলাফল এবং পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

(পরবর্তী প্রান্তিকের প্রতিবেদনে তুলে ধরবো আপডেট তাই এই পোর্টালের ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেলেটি এখনই সাবসক্রাইব করে রাখুন)