বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ব্যাখ্যার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসায় দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচক, লেনদেন এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সম্প্রতি একদিনের অস্বাভাবিক সূচক পতনের ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে গত মঙ্গলবার বিএসইসি ওই পতনের কারণ ব্যাখ্যা করার পর বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে। এর প্রভাব বুধবার থেকে দৃশ্যমান হতে শুরু করে এবং বৃহস্পতিবারও সেই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৫ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৫২ দশমিক ৮২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৩ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৪৩ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপভিত্তিক ডিএসই-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ১৩১ দশমিক ১৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩৯৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে ২৭৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৬৮টির কমেছে এবং ৫৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ বাজারজুড়ে ক্রেতাদের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল।
লেনদেনের পরিমাণেও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ১ হাজার ১১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯৪০ কোটি ২১ লাখ টাকা। ফলে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৭১ কোটি টাকা, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। এদিন সিএসইতে ৯৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৩টির দর বেড়েছে, ৬৯টির দর কমেছে এবং ৩৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সূচকের ক্ষেত্রেও উত্থান অব্যাহত ছিল। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ১৪৯ দশমিক ২৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের কার্যদিবসেও সূচকটি ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
সব মিলিয়ে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচক, লেনদেন ও অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্রুত ব্যাখ্যা ও স্বচ্ছ অবস্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
























