ঢাকা   শনিবার ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

আস্থা ফিরছে এনবিএফআই খাতে, তিন মাসে বেড়েছে আমানত ৪৩১ কোটি টাকা

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০০, ২৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

আস্থা ফিরছে এনবিএফআই খাতে, তিন মাসে বেড়েছে আমানত ৪৩১ কোটি টাকা

দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে আস্থার সংকটে থাকা দেশের নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিলছে। ব্যাংক খাতের পাশাপাশি এনবিএফআই খাতেও চলমান সংস্কার কার্যক্রমের প্রভাবে গ্রাহকদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে আমানত ও আমানতকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে। তবে একই সময়ে ঋণ বিতরণে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে এনবিএফআই খাতের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৫৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ১২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৪৩১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা শতাংশের হিসাবে ০.৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে খাতটির মোট আমানত ছিল ৪৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে হয় ৪৯ হাজার ৭৭৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে আমানত দাঁড়ায় ৫০ হাজার ৭২২ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় এবং ডিসেম্বর শেষে তা পৌঁছায় ৫১ হাজার ১২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকায়। ফলে গত এক বছরে ধারাবাহিকভাবে আমানত বৃদ্ধির প্রবণতা বজায় রয়েছে।

অন্যদিকে, উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে আমানতকারীর সংখ্যাও। চলতি বছরের মার্চ শেষে এনবিএফআই খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২২ হাজার ৭২৬ জনে। তিন মাস আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৮২ জন। ফলে এক প্রান্তিকেই নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ৫১ হাজার ৩৪৪ জন আমানতকারী, যা প্রায় ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

পূর্ববর্তী সময়ের তথ্যও একই ধারা তুলে ধরে। ২০২৫ সালের মার্চ শেষে আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০৭ জন। জুন শেষে তা বেড়ে হয় ৪ লাখ ৮০ হাজার ১৬৩ জন, সেপ্টেম্বর শেষে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮২৫ জন এবং ডিসেম্বর শেষে ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৮২ জনে উন্নীত হয়।

তবে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কিছুটা সংযত অবস্থান নিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে এনবিএফআই খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮ হাজার ৪২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ পরিমাণ ছিল ৭৮ হাজার ৮২৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ফলে তিন মাসে ঋণের স্থিতি কমেছে ৪০৪ কোটি ৩ লাখ টাকা বা ০.৫১ শতাংশ।

এনবিএফআই খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, খাতটির প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তবে এ অগ্রগতির পাশাপাশি বিদ্যমান ঝুঁকিগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তার মতে, আমানতের প্রবৃদ্ধি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক প্রতিফলন। তবে এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে হলে খাতটিতে আরও বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

খাত বিশ্লেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো এম হেলাল আহমেদ জনি বলেন, এনবিএফআই খাতে আমানত ও আমানতকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসার ইতিবাচক ইঙ্গিত। একই সঙ্গে ঋণ বিতরণে কিছুটা কমতি নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ঝুঁকি বিবেচনায় সতর্ক ঋণ বিতরণ ভবিষ্যতে সম্পদের গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই ইতিবাচক ধারা টেকসই করতে হলে সুশাসন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। খেলাপি ঋণ, করপোরেট গভর্ন্যান্সের দুর্বলতা এবং তদারকির ঘাটতি দূর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে। এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এনবিএফআই খাত আবারও দেশের বিনিয়োগ ও অর্থায়নের অন্যতম শক্তিশালী বিকল্প খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

সর্বশেষ