ঢাকা   শনিবার ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে নির্ভর অর্ধেক রেমিট্যান্স—যুদ্ধ বাড়লে শঙ্কা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে

অর্থ ও বাণিজ্য

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:১৫, ২১ মার্চ ২০২৬

সর্বশেষ

মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে নির্ভর অর্ধেক রেমিট্যান্স—যুদ্ধ বাড়লে শঙ্কা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, ততই বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের ওপর বাড়ছে অনিশ্চয়তার ছায়া। কারণ, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেকই আসে উপসাগরীয় ছয় দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, ওমান, বাহরাইন ও কুয়েত থেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) মোট প্রবাসী আয়ের ৪৭ শতাংশই এসেছে এই ছয় দেশ থেকে, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৪৫ শতাংশ। যদিও করোনাকালে ২০২০-২১ অর্থবছরে এই হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ, পরবর্তীতে তা কিছুটা কমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট ৮৬৭ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। এর মধ্যে ৪৮০ কোটি ডলার এসেছে উপসাগরীয় ছয় দেশ থেকে। দেশভিত্তিক হিসাবে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ১৩১ কোটি এবং ইউএই থেকে ১১৮ কোটি ডলার এসেছে। এছাড়া ওমান থেকে ৫১ কোটি, কাতার থেকে ৪২ কোটি, কুয়েত থেকে ৪৪ কোটি এবং বাহরাইন থেকে ২৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

এই অঞ্চলের বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ বা ১৭০ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। এছাড়া এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ১৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ রেমিট্যান্স এসেছে। বাকি ১০ শতাংশ এসেছে বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বেশি প্রবাসী আয় আসার প্রধান কারণ সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ব্যাপক উপস্থিতি। গত বছর বিদেশগামী ১১ লাখ ১৬ হাজার শ্রমিকের মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গেছেন ৭ লাখ ৪৩ হাজার। এছাড়া কাতার, ইউএই ও কুয়েতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী পাড়ি জমান।

বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখ, ইউএইতে ১০ লাখ, ওমানে ৭ লাখ, কাতারে ৪ লাখ ৫০ হাজার, বাহরাইনে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং কুয়েতে ১ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটছে। ইতোমধ্যে এ সংঘাতে পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা আশাব্যঞ্জক ছিল। চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই দেশে এসেছে ২২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যার মধ্যে দ্বিতীয় সপ্তাহেই এসেছে ১১৩ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে। আর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।

সর্বশেষ