ঢাকা   শুক্রবার ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

ঈদের আগে হঠাৎ ফাঁকা মহাসড়ক! যানজট উধাও, স্বস্তিতে ঘরমুখো মানুষ

গ্রামবাংলা

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৪৬, ২০ মার্চ ২০২৬

ঈদের আগে হঠাৎ ফাঁকা মহাসড়ক! যানজট উধাও, স্বস্তিতে ঘরমুখো মানুষ

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে কয়েক দিনের চরম ভোগান্তি ও দীর্ঘ যানজটের পর বদলে গেছে দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোর চিত্র। শুক্রবার দেখা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন অনেকটাই ফাঁকা। নেই গাড়ির চাপ, নেই যাত্রীর ভিড়—বরং কোথাও কোথাও স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও কম যানবাহন চলাচল করছে।

গাজীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—চন্দ্রা, চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া ও টঙ্গী এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে দুর্ভোগে পড়েছিলেন যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবিরতা, গরম ও বৃষ্টিতে ঈদযাত্রা হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। তবে শুক্রবার সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন ফাঁকা সড়কে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, টঙ্গী ও কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও নেই আগের মতো যানজট বা স্থবিরতা।

ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী আবদুল কাদের জানান, গত দুই দিন যানজটের কারণে ফিরে যেতে হয়েছিল তাকে। তবে শুক্রবার রাস্তায় কোনো ভোগান্তি নেই। বনানী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যেখানে আগে ৪-৫ ঘণ্টা লাগত, এখন সেখানে মাত্র এক ঘণ্টায় পৌঁছেছেন।

রাজশাহীগামী যাত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, সন্তান নিয়ে যাত্রা করায় আগে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু এখন রাস্তা ফাঁকা থাকায় দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিকাংশ মানুষ আগেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ায় মহাসড়কে চাপ কমে গেছে। ফলে যানজটও নেই বললেই চলে।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জ অংশের ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও। সাইনবোর্ড ও শিমরাইল এলাকায় সারিবদ্ধভাবে বাস দাঁড়িয়ে থাকলেও যাত্রী সংকটে অনেক গাড়ি প্রায় খালি যাচ্ছে।

পরিবহন কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ থাকলেও শুক্রবার চিত্র উল্টো—গাড়ি বেশি, যাত্রী কম। হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মো. জহির জানান, সকালে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি বাসে গড়ে মাত্র ১৩-১৪ জন যাত্রী ছিল।

কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কের কোথাও যানজট নেই। মৌচাক, মদনপুর ও মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে কুমিল্লা-র দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা-গোমতী সেতু থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায়ও কোথাও যানজটের দেখা মেলেনি। ঢাকা থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সময় লেগেছে মাত্র ৫০ মিনিট।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। এর ফলে সড়কে স্বস্তি ফিরেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের আগমুহূর্তে যাত্রী চাপ কমে যাওয়ায় মহাসড়কে এমন স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে, যা স্বস্তি দিচ্ছে ঘরমুখো মানুষকে।