আর্থিক ঘাটতি নিরসন এবং সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান পরিপালনের জন্য সাতটি ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতা ও বিভিন্ন মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানে থাকায় চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১ হাজার ৩৫তম জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াধীন নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা ১২টি ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারি কোম্পানির বিষয়ে পর্যালোচনা করে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয়।
বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পর্যাপ্ত নিট সম্পদ এবং কয়েকটি মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানের কারণে চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—স্টক ব্রোকার প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড ও অ্যাভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং মার্চেন্ট ব্যাংকার পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
অন্যদিকে, নিট সম্পদসহ বিভিন্ন আর্থিক ও আইনগত শর্ত পূরণে ঘাটতি থাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানকে তা সংশোধনের জন্য নির্ধারিত সময় দিয়েছে কমিশন। এর মধ্যে চারটি স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠান হলো—প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড এবং পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
এ ছাড়া দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠান—আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে একই সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানকে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আর্থিক ঘাটতি নিরসন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘাটতি পূরণ ও প্রয়োজনীয় শর্ত বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের নিট সম্পদের ঘাটতি নিরসন এবং প্রয়োজনীয় বিধিবিধান পরিপালনের জন্য আগেই ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলে বিএসইসির সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএসইসির এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও আইনগত পরিপালনের বিষয়টি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমাধানের সুযোগ তৈরি হলো। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো ঘাটতি পূরণ করতে পারে কি না, তা পরবর্তী সময়ে তাদের কার্যক্রম ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে।
























