ঢাকা   সোমবার ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

আইপিওর অর্থ ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ, ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৪১, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

আইপিওর অর্থ ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ, ঋণ পরিশোধে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ

শেয়ারবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ও পুনঃপ্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আরপিও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, পাবলিক অফারের অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ পরিশোধে এবং ৭০ শতাংশ যৌথ উদ্যোগ, সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ কিংবা ব্যবসা অধিগ্রহণে ব্যয় করা যাবে। পাশাপাশি অর্থ ব্যবহারে পৃথক এসক্রো হিসাব, আর্থিক তথ্য যাচাই এবং নিরীক্ষিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ রোববার ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’-এর সংশোধিত খসড়া জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করেছে বিএসইসি। খসড়াটির বিষয়ে মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি জানানোর শেষ সময় আগামী ২ নভেম্বর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।

প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে, পাবলিক অফারের অর্থ থেকে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঋণ নির্দিষ্ট প্রকল্প বা ব্যবসার ভারসাম্য রক্ষা, আধুনিকীকরণ, পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণের (বিএমআরই) কাজে ব্যবহৃত হতে হবে। ঋণের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিরীক্ষকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া পরিশোধযোগ্য ঋণ খেলাপি বা পুনঃতফসিলকৃত হওয়া যাবে না। এ শর্তের প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিংবা প্রধান নির্বাহীর স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে, যৌথ উদ্যোগ গঠন, সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ কিংবা ব্যবসা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ধরন ও সম্ভাব্য সুবিধা প্রসপেক্টাসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পাবলিক অফারের অর্থের সম্পূর্ণ ব্যবহার শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বিএসইসির প্যানেলভুক্ত নিরীক্ষকের মাধ্যমে নিরীক্ষিত প্রতিবেদন কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থের ব্যবহার নিশ্চিত করতে তফসিলি ব্যাংকে পৃথক এসক্রো হিসাব খোলাও বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রসপেক্টাসে ঘোষিত উদ্দেশ্যের বাইরে ওই হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

আইপিও আবেদনের আগেই কোম্পানির আর্থিক ও অন্যান্য তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএসইসি। এ জন্য কমিশনের প্যানেলভুক্ত নিরীক্ষকের মাধ্যমে কোম্পানির আয়, পাওনা, মজুতপণ্য, ঋণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেন, করসংক্রান্ত বিষয়, আইনি ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য জালিয়াতির আশঙ্কাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে। যাচাই প্রতিবেদন প্রসপেক্টাসের সঙ্গে সংযুক্ত করার পাশাপাশি আবেদনপত্রের সঙ্গেও জমা দিতে হবে।

খসড়ায় আইপিও আবেদনকারী কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক বছরে মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা অর্জন এবং আবেদনের সময় পুঞ্জীভূত লোকসান না থাকার শর্ত যুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান, অন্তত ৫০০ কোটি টাকার সম্পদসম্পন্ন মূলধননিবিড় কোম্পানি এবং নতুন প্রকল্পনির্ভর কোম্পানির ক্ষেত্রে কমিশন শর্তসাপেক্ষে ছাড় দিতে পারবে। এসব কোম্পানিকে তালিকাভুক্তির পর সাধারণত দুই বছরের মধ্যে মুনাফায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণে অন্তত চারটি মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে দুটি হতে হবে পরম মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং বাকি দুটি আপেক্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতি।

সাধারণ বিনিয়োগকারী ও অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বরাদ্দযোগ্য শেয়ারের তুলনায় চাহিদা বেশি হলে লটারির মাধ্যমে শেয়ার বণ্টন এবং স্বয়ংক্রিয় বরাদ্দব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। লটারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও অ্যালগরিদম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে যাচাই করার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া আইপিওর মাধ্যমে নতুন শেয়ার ইস্যু এবং বিদ্যমান শেয়ার বিক্রির সমন্বিত ব্যবস্থায় কোম্পানির তালিকাভুক্তির সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিকে অন্তত ৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হবে। উদ্যোক্তা বা বিদ্যমান শেয়ারধারীদের বিক্রির জন্য প্রতিশ্রুত শেয়ারের অন্তত ২৫ শতাংশ প্রথম লেনদেনের দিন বিক্রি করতে হবে। অবশিষ্ট শেয়ার পরবর্তী ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে বিক্রির বিধান রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের ৫০ শতাংশ প্রথম দিন থেকেই লেনদেনের জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অবশিষ্ট শেয়ারের মধ্যে ২৫ শতাংশের ওপর ৬০ দিন এবং আরও ২৫ শতাংশের ওপর ৯০ দিনের বিক্রয়-নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছে।

কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের ধারণ করা শেয়ারের ক্ষেত্রে দুই বছরের বিক্রয়-নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ হবে বিনিয়োগের তারিখ থেকে তিন বছর অথবা তালিকাভুক্তির পর দুই বছর—এ দুই সময়ের মধ্যে যেটি পরে শেষ হবে, সেই সময় পর্যন্ত।

বিএসইসির প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। জনমত গ্রহণের পর প্রাপ্ত মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি পর্যালোচনা করে বিধিমালা চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

সর্বশেষ