ঢাকা   মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

মুনাফায় বড় উল্লম্ফন, বিএসআরএম স্টিলের ডিভিডেন্ডে বাড়ছে প্রত্যাশা

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:২৩, ৬ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

মুনাফায় বড় উল্লম্ফন, বিএসআরএম স্টিলের ডিভিডেন্ডে বাড়ছে প্রত্যাশা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বিএসআরএম স্টিল চলতি অর্থবছরে মুনাফার ইতিবাচক ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রথম নয় মাসেও ইপিএস ও শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি)। এসব ইতিবাচক সূচকের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুখবর নিয়ে আসছে কোম্পানিটি—বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ড ঘোষণার জন্য বোর্ড সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৪ অক্টোবর বিকেল ৪টায় বিএসআরএম স্টিলের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি ৫০ শতাংশ নগদ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে মুনাফা ও নগদ পরিচালন প্রবাহে উন্নতি হওয়ায় এবার ডিভিডেন্ডের পরিমাণ বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। তবে চূড়ান্ত ডিভিডেন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ সময়ে বিএসআরএম স্টিলের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৬০ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ২ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস বেড়েছে ৩৪ পয়সা।

তবে এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) কমেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এটি দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৫৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ১৩ পয়সা।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ বেড়ে যাওয়া এবং ওই সময়ে বাকিতে বিক্রয় বা ঋণ বিক্রয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নগদ পরিচালন প্রবাহ কমেছে।

এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৯৩ টাকা ৭৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে যা ছিল ৯০ টাকা ৫২ পয়সা।

দ্বিতীয় প্রান্তিকেও ইপিএসে প্রবৃদ্ধি

২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে, অর্থাৎ অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে বিএসআরএম স্টিলের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৫৪ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ২ টাকা ৪১ পয়সা।

ফলে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে, অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ১৪ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ টাকা ৬৭ পয়সা।

অর্থাৎ ছয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ৪৭ পয়সা।

তবে এ সময়েও নগদ পরিচালন প্রবাহে চাপ ছিল। প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৭১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৫ টাকা ৬১ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৯০ টাকা ৪৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে এ মূল্য ছিল ৯০ টাকা ৫২ পয়সা।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, সরবরাহকারীদের বেশি অর্থ পরিশোধ এবং ওই সময়ে বাকিতে বিক্রয় বাড়ায় নগদ পরিচালন প্রবাহ কমেছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফায় বড় উল্লম্ফন

চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এসে বিএসআরএম স্টিলের মুনাফায় উল্লেখযোগ্য গতি দেখা গেছে। জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৬ টাকা ৩৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৪ টাকা ৪৫ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ১ টাকা ৯০ পয়সা।

আর প্রথম নয় মাসে, অর্থাৎ জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৪৯ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ টাকা ১২ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে ইপিএস বেড়েছে ২ টাকা ৩৭ পয়সা।

শুধু মুনাফা নয়, প্রথম নয় মাসে নগদ পরিচালন প্রবাহেও উন্নতি হয়েছে। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৮৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

অন্যদিকে ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ টাকা ৩৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে এ মূল্য ছিল ৯০ টাকা ৫২ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৬ টাকা ৮৪ পয়সা।

ঋণমানেও সর্বোচ্চ ‘এএএ’

বিএসআরএম স্টিলের আর্থিক সক্ষমতার আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো কোম্পানিটির ক্রেডিট রেটিং। ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (ক্রিসল) কোম্পানিটিকে দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’ ঋণমান দিয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি বা আউটলুক ‘স্থিতিশীল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য এবং রেটিং ঘোষণার সময় পর্যন্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্য পর্যালোচনা করে এ রেটিং নির্ধারণ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বিএসআরএম স্টিলের মুনাফা বেড়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএসে বড় উল্লম্ফন হয়েছে, নগদ পরিচালন প্রবাহেও উন্নতি এসেছে এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সর্বোচ্চ ‘এএএ’ ক্রেডিট রেটিং। ফলে ১৪ অক্টোবরের বোর্ড সভায় কোম্পানিটি কত শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে, এখন সেদিকেই নজর বিনিয়োগকারীদের।

সর্বশেষ