শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস পিএলসি। কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার মধ্যেই ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে কোম্পানিটি।
এ লক্ষ্যে আগামী ৪ অক্টোবর বিকেল ৩টায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ নগদ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।
শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ হয়েছিল কারখানা
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গত ২৩ জুন ২০২৬ দুপুর সাড়ে ২টার দিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানায় লে-অফ ঘোষণা করে পরিচালনা পর্ষদ। শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ১৩(১) অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
লে-অফের আওতায় কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের আনা হয়। এতে প্রায় ৫ হাজার কর্মী ও শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল কোম্পানি।
কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, সার্ভিস বেনিফিট বা চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা নিয়ে শ্রমিকদের দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।
২৭ জুন থেকে ফের উৎপাদন শুরু
পরবর্তীতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির সমাধান করা হয়। এর ফলে কারখানায় অনুকূল কর্মপরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২৭ জুন ২০২৬ থেকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন কার্যক্রম আবার শুরু করে এপেক্স স্পিনিং।
অর্থাৎ, কয়েক দিনের মধ্যেই কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় কোম্পানিটি।
নয় মাসে ইপিএস কমেছে ৪৬ পয়সা
কারখানা পুনরায় চালু হলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসে চাপ দেখা গেছে।
কোম্পানির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ তৃতীয় প্রান্তিকে এপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৮৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ১ পয়সা।
অন্যদিকে, জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৫৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩ টাকা ২ পয়সা।
অর্থাৎ, নয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ৪৬ পয়সা।
পরিচালন নগদ প্রবাহেও বড় পতন
ইপিএসের পাশাপাশি কোম্পানিটির পরিচালন নগদ প্রবাহেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।
জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে এপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ১০ টাকা ৯৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এটি ছিল ২১ টাকা ২১ পয়সা।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ কমেছে ১০ টাকা ২৭ পয়সা।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় টার্নওভার থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহ কমে যাওয়ায় পরিচালন নগদ প্রবাহে এ পতন হয়েছে।
সামান্য বেড়েছে এনএভি
তবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে এপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ারপ্রতি এনএভি ছিল ৮৪ টাকা ১৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে এটি ছিল ৮৩ টাকা ১১ পয়সা।
অর্থাৎ, এই সময়ের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি এনএভি বেড়েছে ১ টাকা ৫ পয়সা।
এখন ৪ অক্টোবরের বোর্ড সভায় কোম্পানিটি কত শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে, সেটিই বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে। একই সঙ্গে শ্রমিক অসন্তোষের পর উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার কারণে আগামী সময়ে কোম্পানিটির আর্থিক সূচকে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
























