শেয়ারবাজারে টানা দরপতন, লেনদেনের ধারাবাহিক নিম্নগতি এবং বাজারে অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। তাদের অভিযোগ, বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেই বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্রোকারেজ হাউজে কোয়ারি, তদন্ত ও অনুসন্ধান শুরু হলেও দীর্ঘ সময় ধরে দরপতনে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির বিষয়টি একই গুরুত্বে দেখা হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বাজারে হস্তক্ষেপ বন্ধ, বড় বিনিয়োগকারীদের হয়রানি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পুরনো ভবনের সামনে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনটির সভাপতি কাজী মো. নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি নূরুল হক হারুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহসিন খান এবং অর্থ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচি থেকে বিনিয়োগকারীদের পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—ডিএসইর অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, বড় বিনিয়োগকারীদের হয়রানি বন্ধ করা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, আইসিবি ও ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পদত্যাগ এবং শেয়ারবাজার উন্নয়নে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
মানববন্ধনে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহসিন খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের শেয়ারবাজারে অস্থিরতা ও ধারাবাহিক দরপতন চলছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বড় বিনিয়োগকারীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বাজারের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে এমন অযাচিত হস্তক্ষেপ দ্রুত বন্ধ করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেই বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্রোকারেজ হাউজে নানা ধরনের কোয়ারি, তদন্ত ও অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অথচ বাজার যখন টানা নিম্নমুখী থাকে এবং বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন, তখন বিষয়টি একইভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না।
বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়ে মহসিন খান বলেন, শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে টানা দরপতনের পাশাপাশি মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৪০ পয়েন্টে নেমে আসে। এদিন মোট ৫০৬ কোটি ৭১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এর আগে সোমবার ডিএসইএক্স ৭৯ পয়েন্ট এবং রোববার ৬৪ পয়েন্ট কমেছিল। অর্থাৎ, মাত্র দুই কার্যদিবসেই সূচক কমেছে ১৪৩ পয়েন্ট।
চলতি আগস্টে এখন পর্যন্ত ১৭ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র চার কার্যদিবসে ডিএসইএক্স বেড়েছে। বিপরীতে ১২ কার্যদিবসে সূচকের পতন হয়েছে এবং একদিন সূচক অপরিবর্তিত ছিল।
ফলে আগস্টের প্রায় ৭১ শতাংশ কার্যদিবসেই প্রধান সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। টানা দরপতন, লেনদেনের নিম্নগতি এবং বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণে বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতেই বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
























