শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগে রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলসের পাঁচ পরিচালককে মোট ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, কোম্পানিটির পাঁচ পরিচালক—ইয়াকুব আলী, ইয়াসিন আলী, তানভীর হাবিব, মাশরুফ হাবিব ও সালমান হাবিবকে প্রত্যেককে ২০ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে, রিজেন্ট টেক্সটাইলের অব্যবহৃত আইপিও অর্থ থেকে সুদসহ ৮০ কোটি ১১ লাখ টাকা সরিয়ে লিগ্যাসি ফ্যাশন লিমিটেডের ৯৯ শতাংশ মালিকানা নেওয়া হয়েছে। লিগ্যাসি ফ্যাশন একই পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আইপিওর অর্থ এভাবে ব্যবহারকে বিধিবহির্ভূত বলে মনে করেছে বিএসইসি।
এর আগে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, অপব্যবহৃত ৯০ কোটি টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিজেন্ট টেক্সটাইলের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। তবে সময়সীমা পার হলেও অর্থ ফেরত না দেওয়ায় তদন্ত শেষে পরিচালকদের বিরুদ্ধে এই বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়।
জরিমানার অর্থ আদেশ জারির ২০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ না দিলে প্রত্যেক পরিচালকের ওপর প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা আরোপ হবে এবং বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তা চলতে থাকবে।
আইপিও অর্থ ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের তথ্য আর্থিক প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ না করার অভিযোগও পেয়েছে বিএসইসি। তদন্তে বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস) ১ এবং আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএএস ২৪ অনুসরণ না করার বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক বিবরণীতে কোম্পানির প্রকৃত ও ন্যায্য আর্থিক চিত্র উপস্থাপনে ব্যর্থতার কথাও জানিয়েছে কমিশন।
রিজেন্ট টেক্সটাইল ২০১৫ সালে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। বিএমআরই প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নতুন একটি তৈরি পোশাক ইউনিট স্থাপনের জন্য ওই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় কোম্পানিটি একাধিকবার সময় বাড়ায়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার পর আইপিওর অর্থের একটি অংশ অন্য প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের ঘটনায় অনুমোদনের সময় দেওয়া শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করছে বিএসইসি।
























