ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

ভালো শেয়ারে মিলবে একই দিনে কেনাবেচার সুযোগ

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০৭, ৯ জুলাই ২০২৬

ভালো শেয়ারে মিলবে একই দিনে কেনাবেচার সুযোগ

শেয়ারবাজারে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারে একই কার্যদিবসে কেনাবেচার সুযোগ দিতে ‘ডে নেটিং’ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন এ ব্যবস্থা চালু হলে নির্ধারিত কোম্পানির শেয়ার একই দিনে কিনে আবার বিক্রি করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ পরিকল্পনার কথা জানান বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ডে নেটিং সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সব কোম্পানির শেয়ারে এই সুবিধা কার্যকর করা সম্ভব নয়। তাই প্রাথমিকভাবে ভালো মৌলভিত্তির সীমিতসংখ্যক কোম্পানির শেয়ারে এটি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, শুরুতে প্রায় ৩০টি ভালো মানের কোম্পানিকে এ সুবিধার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সফল বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে এর পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে দুই কার্যদিবসে আনার লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে। এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনার পরদিনই তা বিক্রির সুযোগ পাবেন, যা বাজারে তারল্য ও লেনদেনের গতি বাড়াতে সহায়ক হবে।

বাজারে আরও শক্তিশালী ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি আনতে দ্রুত ‘ডাইরেক্ট লিস্টিং’ বা সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ চালুর উদ্যোগও নিয়েছে বিএসইসি। এ সুবিধা সব যোগ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং আগ্রহী কোম্পানিগুলো আবেদন করতে পারবে। যাচাই-বাছাই শেষে উপযুক্ত কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হবে।

মাসুদ খান বলেন, শেয়ারবাজারে অনিয়ম, কারসাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতে পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তার ভাষ্য, বর্তমানে কারসাজির অভিযোগে কমিশন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উচ্চ আদালতে আপিল করেন। এতে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়। তাই পুঁজিবাজার–সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বাজারে কারসাজি প্রতিরোধে আগামী এক বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–নির্ভর আধুনিক সার্ভেইল্যান্স বা নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে শেয়ারবাজারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারসাজির ঘটনায় শুধু দেওয়ানি মামলা নয়, প্রয়োজন হলে ফৌজদারি মামলার ব্যবস্থাও চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে কমিশন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব।