ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

৯ টাকার শেয়ার, রাইট ইস্যু ১০ টাকায়  অনুমোদন পেলো ইউসিবি

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ৮ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২০:২৪, ৮ জুলাই ২০২৬

৯ টাকার শেয়ার, রাইট ইস্যু ১০ টাকায়  অনুমোদন পেলো ইউসিবি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৭৭৫ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশন সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকটির শেয়ারবাজারের বর্তমান দর অভিহিত মূল্যের নিচে থাকায় রাইট শেয়ার বিক্রি কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বাজারে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিএসইসির অনুমোদন অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারধারীরা প্রতি দুটি শেয়ারের বিপরীতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে একটি করে নতুন শেয়ার কেনার সুযোগ পাবেন। ব্যাংক কোম্পানি আইনে নির্ধারিত মূলধন পর্যাপ্ততার (ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি) শর্ত পূরণ এবং ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারণে এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।

তবে অনুমোদনের দিনই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইউসিবির শেয়ারের সর্বশেষ বাজারদর ছিল ৯ টাকা, যা রাইট শেয়ারের ইস্যু মূল্যের চেয়ে ১ টাকা কম। গত এক বছরে শেয়ারটির দর সর্বনিম্ন ৮ টাকা ৪০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ১১ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

এ অবস্থায় বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে রাইট শেয়ার কিনতে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা আগ্রহী হবেন কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে রাইট শেয়ার ইস্যু হলে সাধারণত বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে।

এদিকে কোম্পানি আইনে নির্দিষ্ট শর্তে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ছাড়ে শেয়ার ইস্যুর সুযোগ থাকলেও বিদ্যমান সিকিউরিটিজ আইনে এমন সুবিধা নেই। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠিত হওয়ায় রাইট শেয়ার অনুমোদনের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থেকেও বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৯ মে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয় ইউসিবি। একই সভায় কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) বিনিয়োগকারীদের কাছে সমঝোতার ভিত্তিতে আরও ৭৭৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির নীতিগত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। পরে ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) উভয় প্রস্তাবই শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন পায়।

ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাইট শেয়ারের অনুমোদন পাওয়ায় মূলধন সংগ্রহ পরিকল্পনার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে দ্বিতীয় ধাপের অর্থ সংগ্রহে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, রাইট শেয়ার কেনা সম্পূর্ণ শেয়ারহোল্ডারদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কোনো শেয়ার অবিক্রীত থাকলে আন্ডাররাইটাররা ১০ টাকা দরে সেগুলো কিনে নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এ নিশ্চয়তার ভিত্তিতেই কমিশন রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে।

ইউসিবির রাইট শেয়ারের আন্ডাররাইটার হিসেবে রয়েছে রূপালী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এবং লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের মালিকানাধীন চারটি মার্চেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান।

এদিকে একই কমিশন সভায় ব্লু-ওয়েলথ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ৩০ কোটি টাকা আকারের একটি বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাসও অনুমোদন করেছে বিএসইসি।