ঢাকা   মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

হু হু করে বাড়ছিল শেয়ারের দাম, শেষ পর্যন্ত লেনদেন স্থগিত

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:১৩, ৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ

হু হু করে বাড়ছিল শেয়ারের দাম, শেষ পর্যন্ত লেনদেন স্থগিত

কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা ছাড়াই মাত্র ১২ কার্যদিবসে প্রায় ৫০ শতাংশ দাম বেড়ে যাওয়ার পর সরকারি মালিকানাধীন জেড শ্রেণিভুক্ত ঝিল বাংলা সুগার মিলসের শেয়ারের লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ঘটনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা—দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রায়ই যৌক্তিক কারণ থাকে না।

মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর পরপরই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম আরও ১৪ টাকা বা প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ বেড়ে যায়। লেনদেন স্থগিত হওয়ার আগে প্রায় ৬৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। এরপর বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুন ঝিল বাংলার প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১২২ টাকা। মাত্র ১২ কার্যদিবসের ব্যবধানে মঙ্গলবার তা বেড়ে প্রায় ১৮১ টাকায় পৌঁছে। অর্থাৎ এই সময়ে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫৯ টাকা বা প্রায় ৫০ শতাংশ।

অস্বাভাবিক এই দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও ঝিল বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে তাদের জানা কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য বা বিশেষ কারণ নেই। ফলে বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ ধরনের দরবৃদ্ধি স্বাভাবিক নয় এবং বিনিয়োগকারীদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কোম্পানির আর্থিক অবস্থার উন্নতি, নতুন বিনিয়োগ, বড় চুক্তি বা ইতিবাচক করপোরেট ঘোষণার মতো কারণ ছাড়া ধারাবাহিকভাবে শেয়ারের দাম বাড়া ঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে উচ্চ দামে শেয়ার কিনতে গিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পরে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

এর আগে একই ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় সোনারগাঁও টেক্সটাইল ও শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারেও লেনদেন স্থগিত করেছিল ডিএসই। তবে সেই পদক্ষেপের পরও কোম্পানি দুটির শেয়ারের দাম আবারও অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেখা গেছে। মঙ্গলবারও সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ বেড়ে ১০১ টাকায় এবং শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ২৯৮ টাকায় ওঠে।

গত ৪ জুন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাজারে কারসাজি ঠেকাতে 'রিয়েল-টাইম' ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছিলেন, কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিশেষ করে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তি নজরদারি থাকবে।

ওই ঘোষণার পর বিএসইসি ডিএসইকে নির্দেশনা দেয়, দুর্বল মৌলভিত্তির যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে, সেসব ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিতের ব্যবস্থা নিতে। ঝিল বাংলার শেয়ার স্থগিতের সিদ্ধান্ত সেই নজরদারিরই অংশ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঝিল বাংলা বর্তমানে জেড শ্রেণিভুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে লোকসানি প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি বহু বছর ধরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। সর্বশেষ জুলাই-মার্চ সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ৫৩ টাকার বেশি লোকসান করেছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি মৌলভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাদের ভাষ্য, শুধুমাত্র শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়ছে—এই কারণেই কোনো শেয়ারে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। বিনিয়োগের আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, মুনাফা, লভ্যাংশ, নগদ প্রবাহ ও ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ছুটতে গিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

সর্বশেষ