ঢাকা   মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ব্যাংকের সুদে নতুন সীমা! ঋণের খরচ কমবে?

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১৬, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

ব্যাংকের সুদে নতুন সীমা! ঋণের খরচ কমবে?

ব্যাংকগুলো যাতে আমানতের সুদের তুলনায় ঋণের সুদহার অতিরিক্ত বাড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা ইন্টারমিডিয়েশন স্প্রেড সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ এ সীমার আওতার বাইরে থাকবে।

এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার সোমবার (২৯ জুন) জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি)। সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ব্যাংক আমানতের সুদহার তুলনামূলক কম বাড়ালেও ঋণের সুদহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান বা স্প্রেড অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও উৎপাদন খাতের ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রেফারেন্স রেট ও মার্জিনভিত্তিক ঋণের সুদহার ব্যবস্থা (SMART) চালুর সময় স্প্রেড-সংক্রান্ত আগের সব নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা কার্যকর হলেও স্প্রেডের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে অনেক ব্যাংক গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করলেও ১২ শতাংশের বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করছে। ফলে গড় স্প্রেড সাড়ে ৫ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। এমনকি কয়েকটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ ব্যবধান ৮ থেকে ১০ শতাংশেরও বেশি।

এ পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীল খাতের ঋণের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্য সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ ও আমানতের গড়ভারিত সুদহারের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৯(২)(চ) ও ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এ নির্দেশনা কার্যকর হলে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার নির্ধারণে আরও সংযত হবে। এর ফলে ঋণগ্রহীতাদের অর্থায়ন ব্যয় কমবে এবং উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন।

সর্বশেষ