ঢাকা   সোমবার ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

আমানতের মুনাফা কাটা নিয়ে বিস্ফোরণ! রাস্তায় হাজারো আমানতকারী

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:১৬, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

আমানতের মুনাফা কাটা নিয়ে বিস্ফোরণ! রাস্তায় হাজারো আমানতকারী

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন আমানতকারীরা। সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত অর্থ তুলতে পারছেন না। এতে চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতেও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানান তারা।


কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় ‘হেয়ারকাট মানি না, মানব না’, ‘এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি’ এবং ‘আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ?’—এমন নানা স্লোগানে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকের হাতে থাকা ব্যানারেও হেয়ারকাট নীতির তীব্র সমালোচনা তুলে ধরা হয়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক এক স্মারকের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে রাখা আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে দিয়ে তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদক্ষেপকে তারা ‘হেয়ারকাট’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের ভাষ্য, এটি আমানত চুক্তির পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণ অমানবিক।

সমাবেশ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া, পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম দ্রুত চালু করা, তারল্য সংকট নিরসনে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা, মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে কমিয়ে দেওয়া মুনাফার হার প্রত্যাহার করে আগের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে আমানতকারীরা উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের মাধ্যমে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে পাঁচটি ব্যাংকের জন্য পৃথক পৃথক মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা তাদের মতে সম্পূর্ণ অসংগত। কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে প্রায় ৭৫ লাখ পরিবারের তিন কোটি সদস্য অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।


সমাবেশ শেষে বেলা ১২টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন অংশগ্রহণকারীরা। মিছিলটি কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে।

আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের এক সদস্য জানান, তাদের দাবির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এবং হেয়ারকাট নীতি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

সর্বশেষ