ঢাকা   রোববার ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২

আট বছরে সর্বনিম্ন মুনাফায় গ্রামীণফোন

আট বছরে সর্বনিম্ন মুনাফায় গ্রামীণফোন

দেশের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন (জিপি) ২০২৫ সালে এক বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এক বছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এর ফলে আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে গ্রামীণফোনের মুনাফা।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। আগের বছর ২০২৪ সালে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে প্রায় ৬৭৩ কোটি টাকা।

মুনাফা কমার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএসেও। ২০২৪ সালে যেখানে ইপিএস ছিল ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা, ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ২১ টাকা ৯০ পয়সায়। একই সঙ্গে কমেছে বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশের পরিমাণ। ২০২৪ সালে ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিলেও ২০২৫ সালে গ্রামীণফোন ঘোষণা করেছে মোট ২১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ (অন্তর্বর্তীসহ)।

রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও সামান্য নেতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। ২০২৪ সালে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় ছিল ১৫ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮০৬ কোটি টাকায়—যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ কোটি টাকা কম।

তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও বছরের শেষ প্রান্তিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে গ্রামীণফোন। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৬০ কোটি টাকায়।

বছর শেষে গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৩৯ লাখে। এর মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ৮৭ লাখ।

এ প্রসঙ্গে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, ২০২৫ সাল ছিল কোম্পানিটির জন্য একটি ‘পুনরুদ্ধারের বছর’। সামষ্টিক অর্থনীতির কঠিন বাস্তবতায় কয়েক প্রান্তিক ধরে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে বছরের শেষ দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং চতুর্থ প্রান্তিকের ফলাফল সঠিক পথে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা অটো মাগনে রিসবাক জানান, সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় করার সক্ষমতা এখনও চাপের মুখে রয়েছে। সে কারণে গ্রামীণফোন খরচ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ফলে প্রতিটি প্রান্তিকে ধাপে ধাপে উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কোম্পানিটি এখন আরও বেশি ভ্যালু-ভিত্তিক কার্যক্রমে মনোযোগ দিচ্ছে।