ঢাকা   সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ছোট মন্ত্রিসভা, বড় প্রত্যাশা

জাতীয়

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪৭, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১২:৫৩, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ছোট মন্ত্রিসভা, বড় প্রত্যাশা

নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা আকারে বড় হচ্ছে না—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে দলীয় সূত্র। তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভা ৩৫ থেকে ৩৭ সদস্যের হতে পারে। এর মধ্যে ২৬–২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ৯–১০ জন প্রতিমন্ত্রী থাকবেন বলে আলোচনা রয়েছে। অতীতের সমালোচিত বড় মন্ত্রিসভার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার ছোট কিন্তু কার্যকর মন্ত্রিসভার দিকেই হাঁটছে বিএনপি।

শপথ আজ, কৌতূহল তুঙ্গে

আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই দিনে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন। ফলে কারা মন্ত্রিসভায় থাকছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবার কৌতূহল তুঙ্গে।


গুজবের তালিকা, সত্যতা নেই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নানা তালিকা ছড়ালেও সেগুলোর কোনোটি পুরোপুরি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র। দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শেষ মুহূর্তে এক–দুজন নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

প্রবীণ–নবীনের সমন্বয়

দলীয় সূত্র জানায়, অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুনত্বের সমন্বয় ঘটাতে চান তারেক রহমান। প্রবীণ, নবীন, দক্ষ ও কর্মঠ নেতাদের নিয়েই গঠিত হতে পারে মন্ত্রিসভা। কারা থাকবেন—সে বিষয়ে মূল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি নিজেই, সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির একজন নেতা।


গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আলোচিত নাম

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ–কে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা চলছে। পাশাপাশি হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের নামও বিবেচনায় রয়েছে। জোটভুক্ত দল, তরুণ নেতা ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আছে।


অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০১–০৬ সময়কালে বিএনপি সরকারের কিছু মন্ত্রণালয়—বিশেষ করে বিদ্যুৎ, স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য ও যোগাযোগ—নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছিল। সে সময় ‘খাম্বা’ ইস্যু, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই দক্ষতা ও সুশাসনের ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।


জাতীয় ঐক্যের বার্তা

দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের পর তারেক রহমান প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন—দেশ পরিচালনায় বিভাজন নয়, ঐক্যই হবে শক্তি। এ লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যোগ্য মানুষই মূল চাবিকাঠি

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুশাসন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মন্ত্রিসভায় সৎ, দক্ষ ও দূরদর্শী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, নতুন সরকারের শুরুতেই অর্থনৈতিক ‘সিগন্যালিং’ দেওয়া জরুরি—আর সেটির বড় মাধ্যম হবে দক্ষ মন্ত্রিসভা।


মন্ত্রিসভাই দেবে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, সুশাসন ও নাগরিক সেবার যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি দিয়েছে—তার বাস্তব প্রতিফলন কতটা হবে, তা অনেকটাই বোঝা যাবে নতুন মন্ত্রিসভার গঠন দেখে। তাই ছোট মন্ত্রিসভা হলেও প্রত্যাশা যে অনেক বড়, তা বলাই বাহুল্য।