ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ আসছে

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ আসছে

বিশেষ মডেলে সহায়তার আশ্বাস অর্থ উপদেষ্টার

একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সুখবর দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। তবে কী প্রক্রিয়ায় এবং কোন মডেলে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে—তা চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লাগবে এবং বিষয়টি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি জানান, ব্যাংক একীভূতকরণের সময় যে ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার এখন সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিচ্ছে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার জোগানসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও কারিগরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অনেক ব্যাংকের ক্ষেত্রে নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) নেতিবাচক হয়ে যাওয়ায় তাত্ত্বিকভাবে শেয়ারহোল্ডারদের দায় সৃষ্টি হয়। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজার পরিস্থিতি ও সংকেত দেখে শেয়ার কিনেছেন—এই মানবিক ও বাস্তব দিকটি বিবেচনায় রেখে তাদের কীভাবে সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। ব্যাংক খাতের পুরো আর্থিক সংকটের দায় বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য কাঠামো প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা জানান, একটি নির্দিষ্ট মডেল তৈরির কাজ চলছে, যা পরবর্তী অর্থমন্ত্রী বাস্তবায়ন করবেন। বড় অঙ্কের বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে আংশিক শেয়ার বরাদ্দ এবং বাকি অংশ নগদ বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। সুনির্দিষ্ট হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের ওপর আর্থিক চাপ কমে আসে।

ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, একক কোনো সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। বাজারে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনীতির জন্য ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন অর্থ উপদেষ্টা। তার মতে, ইকুইটি পার্টিসিপেশন ও বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন ছাড়া শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। চলমান সংস্কার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।