ঢাকা   বুধবার ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

টানা পতনে শেয়ারবাজার, নতুন কমিশনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৩৮, ১৯ আগস্ট ২০২৬

টানা পতনে শেয়ারবাজার, নতুন কমিশনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন

টানা ছয় কর্মদিবস ধরে পতনের বৃত্তে দেশের শেয়ারবাজার। ধারাবাহিক এই পতনের মধ্যে বুধবার (১৯ আগস্ট)ও সূচকের নেতিবাচক অবস্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকসহ অধিকাংশ সূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে টাকার অঙ্কে লেনদেন এবং লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী পতনে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল করতে নতুন নিয়ন্ত্রক কমিশনের দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তাদের মতে, বাজারে আস্থার সংকট কাটাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্রুত ও জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে শেয়ারবাজারে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা গিয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। ধারাবাহিক দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও আরেকটি অংশ বর্তমান পরিস্থিতিকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা পতনের কারণে অনেক ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারদর তুলনামূলক কমে এসেছে। ফলে মৌলভিত্তি, আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে ভালো কোম্পানির শেয়ার বাছাই করে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাজার ঘুরে দাঁড়ালে এসব শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা ভালো মুনাফা পেতে পারেন।

তাদের প্রত্যাশা, শেয়ারবাজারের বর্তমান নেতিবাচক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। একপর্যায়ে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে এবং সূচক ও লেনদেনে আবারও ইতিবাচক গতি ফিরবে। তাই আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করে সতর্কতার সঙ্গে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ার নির্বাচন এবং বিনিয়োগ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সূচক ও লেনদেনের চিত্র

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বুধবার সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ দশমিক ৯১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৬৯ দশমিক ৭১ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, ডিএসইএস সূচক ০ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫১ দশমিক ১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ৫০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬২ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪০টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৯৮টির কমেছে এবং ৬১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিনটিতে ডিএসইতে প্রায় ৭৩২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ২৬৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

সিএসইতেও পতন, কমেছে লেনদেন

দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বুধবার নেতিবাচক ছিল বাজারের চিত্র। এদিন মোট ৩৭ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।

বুধবার সিএসইতে মোট ২০৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ১১৭টির কমেছে এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৯ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৪৯৪ দশমিক ১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন সূচকটি ১১০ দশমিক ৭২ পয়েন্ট কমেছিল।

সব মিলিয়ে, টানা ছয় দিনের পতনে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিস্থিতি কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।