ঢাকা   শনিবার ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

চার কোম্পানির আর্থিক ফলে ভিন্ন চিত্র: মুনাফায় চমক, লোকসানে আরও অবনতি

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ১৮ জুলাই ২০২৬

চার কোম্পানির আর্থিক ফলে ভিন্ন চিত্র: মুনাফায় চমক, লোকসানে আরও অবনতি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত চার কোম্পানি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত ফলে কোনো কোম্পানির মুনাফায় বড় পরিবর্তন দেখা গেছে, আবার কোনো কোম্পানির লোকসান আরও বেড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ছয় মাসের ইপিএসে বড় উল্লম্ফন এবং ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রান্তিক মুনাফায় ঘুরে দাঁড়ানো বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। বিপরীতে বিআইএফসির লোকসান ও নেতিবাচক নিট সম্পদ মূল্য কোম্পানিটির আর্থিক দুর্বলতার চিত্রই তুলে ধরছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন ২০২৬) বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৬ পয়সা। অর্থাৎ প্রান্তিক হিসাবে ইপিএসে সামান্য পতন হয়েছে।

তবে ছয় মাসের হিসাবে চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন। জানুয়ারি-জুন ২০২৬ সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ২৪ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ১ টাকা ২৩ পয়সা। ফলে ছয় মাসের ইপিএসে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।

এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ কার্যকরী প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৫২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৬ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২২ টাকা ৫ পয়সা।

ইসলামিক ফাইন্যান্স

লোকসান থেকে কি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে ইসলামিক ফাইন্যান্স? দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলে এমন প্রশ্নই সামনে এসেছে।

এপ্রিল-জুন ২০২৬ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৮৭ পয়সা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫৬ টাকা ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রান্তিক ফলাফলে বড় পরিবর্তন এসেছে।

তবে ছয় মাসের হিসাবে এখনো লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারেনি কোম্পানিটি। জানুয়ারি-জুন ২০২৬ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১ টাকা ৭ পয়সা।

ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি নগদ কার্যকরী প্রবাহ হয়েছে ৫৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ২ টাকা ৩৩ পয়সা।

বিআইএফসির লোকসান কমেনি, বরং বেড়েছে

চার কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক আর্থিক চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি বা বিআইএফসিতে।

এপ্রিল-জুন ২০২৬ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৪৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১ টাকা ৪৭ পয়সা।

ছয় মাসের হিসাবে লোকসান আরও বেড়েছে। জানুয়ারি-জুন ২০২৬ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ২৬ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ১২ পয়সা।

এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ কার্যকরী প্রবাহও নেতিবাচক রয়েছে। এনওসিএফপিএস হয়েছে মাইনাস ৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাইনাস ৫ পয়সা।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১৩৬ টাকা ৮৪ পয়সা। অর্থাৎ কোম্পানিটির দায় তার সম্পদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি—যা আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।

সেনা ইন্স্যুরেন্সে সামান্য কমেছে মুনাফা

সেনা ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফলেও সামান্য দুর্বলতা দেখা গেছে। এপ্রিল-জুন ২০২৬ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৫৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা।

ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৩৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৪৭ পয়সা।

তবে নগদ প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি নগদ কার্যকরী প্রবাহ হয়েছে ৬ টাকা ৩২ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ টাকা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ৩০ টাকা ৪৩ পয়সা।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা কী?

চার কোম্পানির আর্থিক ফলাফল বলছে, শুধু ইপিএস দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ছয় মাসের ইপিএসে বড় উল্লম্ফন দেখা গেলেও নগদ প্রবাহ কমেছে। ইসলামিক ফাইন্যান্স প্রান্তিক হিসাবে লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরলেও ছয় মাসের হিসাবে এখনো লোকসানে রয়েছে। আর বিআইএফসির ক্ষেত্রে লোকসান, নেতিবাচক নগদ প্রবাহ এবং বিপুল নিট দায়—সব মিলিয়ে ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্ট।

তাই কোম্পানির মুনাফার পাশাপাশি নগদ প্রবাহ, সম্পদ-দায় পরিস্থিতি এবং ধারাবাহিক আর্থিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।