ঢাকা   শনিবার ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইসলামী ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৩১, ১৩ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি

ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের দায়-দেনা পরিশোধেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের সাত দফা দাবি আগামী শনিবারের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুরুন নবী মানিক।

গ্রাহক ফোরাম গত ১ জুন থেকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পুনর্বহালসহ সাত দফা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও মন্ত্রীর বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে অনেকে ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিচ্ছেন।

গ্রাহক ফোরামের নেতারা বলেন, ব্যাংকটির প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ এবং সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।

এদিকে, তারল্য সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহার পর ব্যাংকটি থেকে ৭ হাজার কোটিরও বেশি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর থেকে ব্যাংকটি নানা বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগের মুখে পড়ে। ২০২২ সাল থেকে ব্যাংকটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও প্রকট হয়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি কিছুটা তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠেছিল বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন। পরবর্তীতে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়।