ভারতের সামরিক নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠের হাত ধরে। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডে নেতৃত্ব এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের কারণে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম দক্ষ ও প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর অবসরের পর ৩০ জুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।
১৯৮৬ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত ধীরাজ শেঠ কর্মজীবনের শুরু থেকেই যুদ্ধক্ষেত্র পরিচালনা, সামরিক পরিকল্পনা ও কৌশলগত নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ধাপে ধাপে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে ভারতের অন্যতম শক্তিশালী স্ট্রাইক ফরমেশন ‘সুদর্শন চক্র কোর’, যা দেশের আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
সামরিক নেতৃত্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি আধুনিক যুদ্ধনীতি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এসব অভিজ্ঞতা তাকে বৈশ্বিক সামরিক প্রবণতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
ধীরাজ শেঠ এমন এক সময়ে ভারতের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, যখন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনা, পাকিস্তানকে ঘিরে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, সাইবার যুদ্ধের বিস্তার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তির বিকাশ—সব মিলিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ফলে তার নেতৃত্বের ধরন ও কৌশলগত অগ্রাধিকার শুধু ভারতের জন্যই নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ধীরাজ শেঠের নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং সমন্বিত যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা আরও জোরদার হতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং বহুমাত্রিক সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে তার আগ্রহ ভবিষ্যৎ সামরিক নীতিতে প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং আধুনিক সামরিক চিন্তার সমন্বয়ে ধীরাজ শেঠ এখন ভারতের প্রতিরক্ষা কাঠামোর কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। আগামী কয়েক বছর তার নেতৃত্ব ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
























