ঢাকা   শনিবার ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোম্পানি তদারকিতে পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে স্টক এক্সচেঞ্জ: বিএসইসি চেয়ারম্যান

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:১৬, ১৩ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৮:২১, ১৩ জুন ২০২৬

কোম্পানি তদারকিতে পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে স্টক এক্সচেঞ্জ: বিএসইসি চেয়ারম্যান

শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাজার মনিটরিং এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর তদারকিতে স্টক এক্সচেঞ্জকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, আইনি সীমার মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করবে। এ ক্ষেত্রে কমিশন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। প্রয়োজন হলে স্টক এক্সচেঞ্জের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। তবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এক্সচেঞ্জ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে কিংবা আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে পদক্ষেপ নিতে না পারলে কমিশন নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।

বৈঠকে বিএসইসির তিন কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব ও নাফিজ-আল-তারিকসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ডিএসইর পক্ষে নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। এ সময় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ারও উপস্থিত ছিলেন।

নতুন কমিশনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন ইতোমধ্যে বাজারে দেখা গেছে। টানা দশ কার্যদিবস ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গতকাল শুধু ডিএসইতেই ১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের পর সর্বোচ্চ।

এদিকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান পূর্বে ক্রাউন সিমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন— এমন তথ্য সামনে আসার পর কোম্পানিটির শেয়ারের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়। দিনের শুরুতেই শেয়ারটি সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে উঠে ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। একই চিত্র দেখা যায় প্রিমিয়ার সিমেন্টের শেয়ারেও।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসেই বিএসইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন কমিশন তাদের অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে। বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং কারসাজি প্রতিরোধে সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশেষ করে বন্ধ ও রুগ্ণ কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারসহ বাজার সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, ভালো মানের কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে আইপিও বিধিমালা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড, মার্জিন ঋণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডিএসইর পরিচালকদের উদ্দেশে মাসুদ খান বলেন, দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও কার্যকর শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের আস্থা অর্জনে ডিএসইকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির মনিটরিং এবং নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ে আরও সক্রিয় হতে হবে। স্টক এক্সচেঞ্জকে দায়িত্ব পালনে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, নতুন কমিশন অত্যন্ত পেশাদার, পরিপক্ব এবং দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। তাদের নেতৃত্বে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।