ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২

লোকসান বাড়লেও ১০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা আরএকে সিরামিকসের

লোকসান বাড়লেও ১০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা আরএকে সিরামিকসের

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেড ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরে বড় অঙ্কের লোকসানে পড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য বছরে কোম্পানিটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩৯.৫৯ কোটি টাকা

যদিও বছরে কোম্পানিটির রাজস্ব ১০.৫৬ শতাংশ বেড়ে ৭৩৭.৩৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, তবে উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক খরচ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত লোকসান এড়ানো সম্ভব হয়নি।

কোম্পানি সূত্র জানায়, বছরের প্রথম ছয় মাসে (জুন পর্যন্ত) গ্যাস সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি কার্যকরী মূলধনের জন্য নেওয়া ঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা লোকসানের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

বিক্রয় বাড়লেও মোট মুনাফার মার্জিনে বড় ধস নেমেছে। আগের বছরের ১৭.১৯ শতাংশ মার্জিন কমে চলতি বছরে তা ১৩.১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় স্থির খরচ যথাযথভাবে সমন্বয় করা যায়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুরনো মজুত পণ্যের অবলোপন এবং অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত, যা মুনাফার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালেও কোম্পানিটি ২.৭৩ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছিল। ফলে এটি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো লোকসানের বছর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে লোকসানের মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, মোট শেয়ারের ৭২.০৮ শতাংশের মালিক উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা এই ডিভিডেন্ড গ্রহণ করবেন না

এর ফলে বাকি ২৭.৯২ শতাংশ শেয়ারের মালিক সাধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট বিতরণযোগ্য ডিভিডেন্ডের পরিমাণ দাঁড়াবে ১১.৯৫ কোটি টাকা। লোকসান সত্ত্বেও এই ডিভিডেন্ড ঘোষণাকে বাজারে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

অন্যদিকে, অপারেটিং কার্যক্রমে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। বকেয়া আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাওনাদারদের সঙ্গে পরিশোধের সময়সীমা পুনর্গঠনের ফলে নগদ প্রবাহের উন্নতি হয়েছে। এর ফলে শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ৪৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ডিভিডেন্ড অনুমোদনের জন্য আগামী ৩১ মার্চ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। আর ডিভিডেন্ড পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে ২৫ ফেব্রুয়ারি রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।