শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক লোকসান, লেনদেন স্থবিরতা ও আর্থিক সংকটে থাকা ১১টি বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা (বিজনেস কন্টিনিউটি প্ল্যান) দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স বিভাগ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে লোকসান ও কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ করণীয় জানতে চেয়েছে।
নির্দেশনার আওতায় থাকা ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৬টি ব্রোকারেজ হাউজ, ৪টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ১টি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।
ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো—
প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ, ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড, পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড, আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—
আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড, পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
এছাড়া নির্দেশনার আওতায় থাকা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিটি হলো—
প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।
জানা গেছে, এর আগেও ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিএসইসি বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছে ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা জমা না দেওয়ায় বিষয়টি কমিশনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পুনরায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সাবসিডিয়ারি ও অ্যাসোসিয়েট কোম্পানিকে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার কার্যবিবরণী ১১ সেপ্টেম্বর পাঠানো হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান তা অনুসরণ করেনি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বিজনেস কন্টিনিউটি প্ল্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিকল্পনার ঘাটতি বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এ কারণে চিঠি জারির তারিখ থেকে পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র কমিশনে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা মানা না হলে প্রশাসনিক বা বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিএসইসি নজরদারি আরও জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
























