
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)-এর রাইট শেয়ার ইস্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক মামুন রশিদ অবিক্রিত ২ লাখ ৫০ হাজার রাইট শেয়ার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এবং বাজারে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, রেকর্ড ডেটের নীতি স্পষ্ট—শুধুমাত্র ওই তারিখে যাদের নাম তালিকাভুক্ত থাকে, তারাই রাইট শেয়ার নেওয়ার যোগ্য। এক শেয়ারহোল্ডারের দাবি, ডিএসইতে ওইদিন এনটিসির শেয়ারের দাম ছিল ১৯৫ টাকা। ফলে মামুন রশিদ এই শেয়ার কিনতে পারলে প্রতিটি শেয়ারে প্রায় ৭৫ টাকা তাৎক্ষণিক মুনাফা করবেন, যা মোটে দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অথচ তিনি রেকর্ড ডেট অনুযায়ী যোগ্য নন।
বিতর্কের জবাবে মামুন রশিদ বলেন, “অনেক চেষ্টা করেও সাবস্ক্রিপশন শেষ করা যায়নি। তাই বিএসইসি ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কয়েকজন পরিচালক অবিক্রিত শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখিয়েছেন। আমি কেবল আগ্রহ প্রকাশ করেছি, অনুমোদন না পেলে কিনব না।”
বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, রাইট শেয়ার মূলত রেকর্ড ডেটের তালিকাভুক্ত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য। তবে প্রস্তাবপত্রে উল্লেখ থাকলে পরিচালকরা শেয়ার কিনতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কী ঘটেছে, তা যাচাই করা হবে।
অন্যদিকে, এনটিসির কোম্পানি সচিব এ কে আজাদ চৌধুরী জানান, বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবিক্রিত রাইট শেয়ার পরিচালকরা কিনতে পারবেন। তবে ২০২২ সালের ওই সভায় স্বতন্ত্র পরিচালকদের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না।
উল্লেখ্য, রাইট শেয়ারের মাধ্যমে এনটিসি ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, কার্যকরী মূলধন জোগান এবং চা বাগান ও কারখানার উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু বিএসইসি শর্ত দিয়েছিল—সরকারের ৫১ শতাংশ শেয়ার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইতোমধ্যে ২৯ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছে কোম্পানি।
২০২২ সালে বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা করতে হয়। সেই শর্ত পূরণেই এনটিসি রাইট শেয়ার ইস্যুর উদ্যোগ নেয়। বহুবার সময় বাড়ানোর পরও প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। সর্বশেষ ১৩ আগস্ট চতুর্থ রাউন্ডের আবেদন শেষ হলেও কয়েক লাখ শেয়ার অবিক্রিত থেকে যায়।
গত বছরের এপ্রিলে বিএসইসি এনটিসিকে ২ কোটি ৩৪ লাখ রাইট শেয়ার ১১৯ টাকা ৫৩ পয়সা (১০৯ টাকা ৫৩ পয়সা প্রিমিয়ামসহ) দরে ইস্যুর অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে সরকার, আইসিবি, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, স্পন্সর-পরিচালক ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শেয়ার বরাদ্দ ছিল।