
চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কীভাবে এত বড় নির্বাচন (জাতীয় সংসদ) পরিচালনা করবে, তা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী শঙ্কিত এবং উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেছেন, আগে একদল বাসস্ট্যান্ড দখলে নিত, এখন আরেকটি গ্রুপ নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে দখলদারদের বিরুদ্ধে ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (এখন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) আজ রোববার বিকেলে বৈঠক করে জামায়াতের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে বেরিয়ে যমুনার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তিনি।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো.তাহের বলেন, এখন যে সময় আছে, সরকার যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো সম্ভব। পরিস্থিতির যদি উন্নতি ঘটে, তাহলে একটা নির্বাচন হওয়া সম্ভব।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলেছেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁরা একমত পোষণ করেছেন, তবে কার্যকারিতার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, দেশ একটি নীলনকশার নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকারের লন্ডনে একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিল, যা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এতে সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং একটি দলকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রের দিনে (৫ আগস্ট) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করাটা কোনো একটা চাপে পড়ে করা হয়েছে। এখানে একটা চাপ আছে। সরকারের উচিত ছিল জুলাই সনদের ব্যাপারে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নির্বাচনের রোডম্যাপ এবং তারিখ ঘোষণা করা।
জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, নুরুল হকের (গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি) ওপর হামলার ষড়যন্ত্র অনেক গভীরে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে বলেছে জামায়াত। আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টি কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জাতীয় পার্টির বিষয়েও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন তাঁরা।