ঢাকা   রোববার ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

শেয়ারবাজারে রেকর্ড উত্থান, সপ্তাহ শুরু সূচকের ঝলকানি দিয়ে

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৩, ৩১ আগস্ট ২০২৫

শেয়ারবাজারে রেকর্ড উত্থান, সপ্তাহ শুরু সূচকের ঝলকানি দিয়ে

দেশের শেয়ারবাজারে নতুন সপ্তাহ শুরু হলো উজ্জ্বল সাফল্যের মধ্য দিয়ে। আজ রোববার (৩১ আগস্ট) সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেনের উত্থান বিনিয়োগকারীদের মুখে এনে দিয়েছে আশার আলো। বাজারজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য ও সক্রিয় অংশগ্রহণ, যা দীর্ঘদিন পর বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

আজ দিনের লেনদেন শুরু হয় সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে। পরে স্বাভাবিক ওঠানামার পরও সূচকের ধারা ইতিবাচক থাকায় একপর্যায়ে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। দিনশেষেও সূচকের উত্থান ধরে রাখায় লেনদেনের পরিমাণ রেকর্ড ছুঁয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই দরবৃদ্ধি নিয়ে দিন শেষ করে।

আজ ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে ৭৬.৪৪ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫৯৪.৩৯ পয়েন্টে— যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সূচক সর্বশেষ এতটা উচ্চতায় ছিল (৫ হাজার ৫৮৬ পয়েন্ট)। একই দিনে ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ২০.৫০ পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২৭.৭০ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ৩৬.৭৩ পয়েন্ট হয়ে পৌঁছেছে ২ হাজার ১৯৩.৭২ পয়েন্টে।

লেনদেনের দিক থেকেও আজকের দিনটি উল্লেখযোগ্য। মোট ৩৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০১টির দর বেড়েছে, ১৪১টির কমেছে এবং ৫৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এটি গত প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড। তুলনায়, গত বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৩২ কোটি ৩১ লাখ টাকার। অর্থাৎ মাত্র একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ছিল একইরকম ইতিবাচক ধারা। সেখানে মোট ২৬০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫২টির দর বেড়েছে, ৭৪টির কমেছে এবং ৩৪টির কোনো পরিবর্তন হয়নি। সিএসইতে দিনের লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার, যদিও আগেরদিন তা ছিল ২৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। তবে সূচকে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে— সিএএসপিআই সূচক বেড়েছে ২৩৩.৩৪ পয়েন্ট, দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫৯০.৬৪ পয়েন্টে।


বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক উত্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করছে। ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শেয়ারবাজার দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার দিকে এগোবে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ আরও শক্ত ভিত্তি পাবে।