নারী এশিয়ান কাপে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশের জন্য ছিল বড় পরীক্ষা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারলেও মাঠে বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাসী লড়াই নজর কেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের।তবে ম্যাচের বড় আক্ষেপ—ঋতুপর্ণার সেই সম্ভাবনাময় শটটি জালে না জড়ানো।
“ওই গোলটা হলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো”
ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে দলের মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা বলেন,
“অবশ্যই আফসোস তো থাকবেই। কারণ, একটা ভালো টিমের সঙ্গে যে সুযোগ আসে, সেটা কাজে লাগানো গেলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো। আমরা ওর শটের ভিডিওটা অনেকবার দেখেছি।”
হার ছাপিয়ে পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টির কথাও জানান তিনি। সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে মারিয়া বলেন,
“আমরা একটা কঠিন দলের সঙ্গে খেলেছি। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ৯ বার চ্যাম্পিয়ন টিমের বিপক্ষে মাত্র দুই গোল খেয়েছি—এটা আমাদের জন্য অনেক বড় শেখা।”
দলের অন্যতম প্রাপ্তি গোলকিপার মিলি আক্তার-এর দুর্দান্ত নৈপুণ্য। শুরুতে কিছুটা সংশয় থাকলেও ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আস্থা ফিরিয়েছেন তিনি।
মারিয়ার ভাষায়,
“সে আমাদের বুঝতে দেয়নি কোনো দুর্বলতা। নিজের পারফরম্যান্সটা খুব ভালোভাবে দিয়েছে। আমাদের মনের ভেতর আস্থা ছিল তাকে নিয়ে।”
বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান । ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচ নিয়ে সতর্ক মারিয়া।
“প্রথম ম্যাচ যেভাবে সুন্দরভাবে শুরু করেছি, দ্বিতীয় ম্যাচেও সেভাবেই শুরু করতে হবে। কোনো দলকে সাধারণ ভাবা যাবে না। মাঠের লড়াইয়েই ফল নির্ধারিত হয়।”
ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা ছিলেন পরিশ্রান্ত। তাই বোনাস বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে ফেডারেশন সভাপতি খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়েছেন এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
সবশেষে নিয়মিত অনুশীলন ও সমর্থকদের কৃতিত্ব দিয়েছেন মারিয়া—
“আমরা প্রতিনিয়ত প্র্যাকটিস করছি, তারই ফল পাচ্ছি। দেশে-বিদেশে যারা আমাদের সমর্থন করেছেন, তাদের জন্যই ভালো কিছু করতে পেরেছি।”
চীনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে লড়াই করে মাত্র দুই গোল হজম—এটাই প্রমাণ করে, নারী ফুটবলে বাংলাদেশ এখন কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে। এখন নজর ৬ মার্চের ম্যাচে—সেখানে কি মিলবে ইতিহাস গড়ার সুযোগ?
তবে মারিয়ার মুখে সতর্কবার্তাও, ‘কোনো টিমকে আসলে সাধারণ ভাবা যাবে না। আমাদের গ্রুপের সব দলই কিন্তু অনেক শক্তিশালী। খেলার ফলাফল মাঠের লড়াইয়ের ওপরই নির্ভর করে। অনেক সময় ভালো দলও হেরে যায় আবার সাধারণ দলও পরের রাউন্ডে উঠে যায়।’
সবশেষে মারিয়া এই অর্জনের কৃতিত্ব দিয়েছেন নিয়মিত অনুশীলন এবং সমর্থকদের। কৃতজ্ঞতাও ঝরেছে তাঁর কণ্ঠে, ‘আমরা প্রতিনিয়ত প্র্যাকটিস করছি, তারই ফল পেয়েছি। বিশেষ করে দেশের বাইরে বা দেশে যাঁরা আমাদের উৎসাহিত করেছেন, তাঁদের জন্যই আসলে ভালো কিছু করতে পেরেছি।’
























