আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারেও। বিশেষ করে ইরানে হামলার পর থেকে বৈশ্বিক বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার ছায়া দেখা গেছে দেশীয় লেনদেনেও। মাঝখানে একদিন সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে আবারও সামান্য পতন হয়েছে।
তবে পুরো চিত্রে ছিল ভিন্ন বার্তা—সূচক কমলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, যা বাজারের ভেতরে একধরনের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডিএসইতে সূচক কম, কিন্তু বাড়ল বেশিরভাগ শেয়ার
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ দিনশেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২.০৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫,৩২৩.০৩ পয়েন্টে।
তবে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে—
২২৭টির দর বেড়েছে
১১২টির কমেছে
৫৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে
এদিন মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫৮০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ৮৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৩০২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা কম।
ডিএসইর অন্যান্য সূচকের অবস্থান—
ডিএসইএস কমেছে ০.৮৭ পয়েন্ট
ডিএসই-৩০ কমেছে ৪.৭৪ পয়েন্ট
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এ ১৭০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০টির দর বেড়েছে, ৮৯টির কমেছে এবং ২১টি অপরিবর্তিত ছিল।
সিএএসপিআই সূচক ৭৭.৬৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫,০৭২.৫৪ পয়েন্টে।
মোট লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে—
আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে
ঈদ সামনে থাকায় অনেকেই মুনাফা তুলে নিচ্ছেন
ফলে সূচকে সামান্য চাপ তৈরি হয়েছে
তবে অধিকাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি প্রমাণ করে, বাজারে আতঙ্কজনিত বড় ধরনের বিক্রি হয়নি। বরং এটি একটি “সুস্থ সংশোধন” (healthy correction) হিসেবে দেখা যেতে পারে।
সূচক সামান্য কমলেও বেশি সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি বাজারের ভেতরের শক্তি নির্দেশ করে। লেনদেন কমে এলেও দর বৃদ্ধির এই প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বৈশ্বিক চাপের মাঝেও বাজার পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি—বরং ধীরে ধীরে ভারসাম্য খুঁজছে। এখন নজর থাকবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও বিনিয়োগকারীদের আচরণের ওপর।
























