ঢাকা   রোববার ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

বিসিটিআইয়ের স্বল্পমেয়াদী কোর্সের সনদ প্রদান ও তারুণ্যের উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বিসিটিআইয়ের স্বল্পমেয়াদী কোর্সের সনদ প্রদান ও তারুণ্যের উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) আয়োজিত চারটি স্বল্পমেয়াদী কোর্সের সনদপত্র প্রদান এবং ‘তারুণ্যের উৎসব’-এর আওতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালে বিসিটিআইয়ের তত্ত্বাবধানে এই প্রথম চার সপ্তাহব্যাপী চারটি কোর্স পরিচালিত হয়।

সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সচিব মাহবুবা ফারজানা। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান এনডিসি, কোর্স মেন্টর ও গভর্নিং বডির সদস্য রফিকুল আনোয়ার, মো. আরিফুর রহমান ও নায়েলা আজাদ নুপুর। সভাপতিত্ব করেন বিসিটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।

চারটি কোর্স ছিল—‘বেসিক ফিল্ম কোর্স’, ‘২য় ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স’, ‘৩য় চলচ্চিত্র সম্পাদনা প্রশিক্ষণ পাঠ্যধারা’ এবং ‘৮ম চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনয় প্রশিক্ষণ কোর্স’। প্রশিক্ষণার্থীদের নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পর তাদের হাতে সনদপত্র ও উপহার তুলে দেওয়া হয়।

তথ্য উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সিনেমা তথ্য সরবরাহের বড় ক্যানভাস, এর মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশের সঠিক চিত্র তুলে ধরা সম্ভব। চলচ্চিত্র এমন একটি ভাষা যার বাণিজ্যিক চাহিদা বিশ্বব্যাপী, আর বাংলা চলচ্চিত্রের বিপণন ক্ষেত্র শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝেও বিস্তৃত। গল্প ও নির্মাণ আন্তর্জাতিক মানের হলে ডাবিং করে বিদেশেও রপ্তানি সম্ভব। তিনি ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ বাস্তবায়নের আওতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের নিয়ে চারটি প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজনের প্রস্তাব করেন।

একই অনুষ্ঠানে সচিব মাহবুবা ফারজানা বিসিটিআই নিয়ে নতুন সম্ভাবনার ইতিবাচক অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন। বক্তব্য দেন মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান এনডিসি, প্রশিক্ষক রাফিকুল আনোয়ার ও প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।

বিসিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, নির্মাতা, অভিভাবক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। নার্গিস আক্তার, শাকুর মজিদ, ফজলে হকসহ অতিথিরা নতুনদের জন্য অভিজ্ঞদের দরজা উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান।

শেষে ‘তারুণ্যের উৎসব’-এর তৃতীয় পর্বে প্রশিক্ষণার্থীদের আয়োজনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। চারটি কোর্সে ৩৬ জুলাই ছাত্র-গণআন্দোলনভিত্তিক ৪টি প্রামাণ্যচিত্র, ১টি কাহিনীচিত্র, ১টি গ্রিন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও কক্সবাজারের লবণ শিল্পভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়।

বেসিক ফিল্ম কোর্সে মেন্টর আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে ২৭ জন, ২য় ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্সে লাবিব নাজমুস সাকিব ও রফিকুল আনোয়ারের নেতৃত্বে ১১ জন, ৩য় চলচ্চিত্র সম্পাদনা প্রশিক্ষণ পাঠ্যধারায় ইকবাল কবির জুয়েলের নেতৃত্বে ১৩ জন এবং ৮ম অভিনয় ও সেট ডিজাইন কোর্সে নায়লা আজাদ নুপূর ও আখতানিন খায়ের তানিনের নেতৃত্বে ৯ জন প্রশিক্ষণার্থী সনদ অর্জন করেন। চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষকরা এসব কোর্সে প্রশিক্ষণ দেন।