বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে স্বাধীন ও জাতীয় স্বার্থনির্ভর—এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ আর কারও নির্দেশ বা প্রভাবের অধীনে পরিচালিত হবে না; বরং দেশের নিজস্ব স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) পূর্ব লন্ডনের অল্ট্রিয়াম হলে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ তার নিজের ইচ্ছায় চলবে এবং নিজের স্বার্থ রক্ষায় পরিচালিত হবে। এটাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অঙ্গীকার।”
‘পররাষ্ট্রনীতি বন্ধক রাখা হয়েছিল’
বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে দেশের পররাষ্ট্রনীতি একটি নির্দিষ্ট দেশের কাছে কার্যত বন্ধক রাখা হয়েছিল। সে সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জাতীয় স্বার্থের প্রতিফলন ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় মর্যাদা—এই চারটি বিষয়ই দেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত।
জিয়াউর রহমানের সময়কে ‘সোনালি সময়’ উল্লেখ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি শক্তিশালী ও স্বাধীন ছিল। সেই সময়কে তিনি দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমি তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়েছিলাম। সেটা ছিল আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সোনালি সময়। আমরা আবার সেই জায়গায় ফিরে যেতে চাই।”
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত ৪ বাংলাদেশি
বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক সহিংসতায় চারজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ইফতার মাহফিলে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ–এর সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু–এর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ইউরোপের সমন্বয়ক কামাল আহমেদসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
























